Pallibarta.com | মোংলা বন্দরের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ - Pallibarta.com মোংলা বন্দরের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ - Pallibarta.com

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোংলা বন্দরের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ

মোংলা বন্দরের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ

মোংলা বন্দরের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ ।
মোংলা বন্দরের ইনারবার ড্রেজিংয়ের ২টি কম্পার্টমেন্ট কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত মালিকপক্ষ। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে জয়মনির কাটাখালী এলাকায় ড্রেজিং প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পশুর চ্যানেল খননের কথা বলে কৃষি জমি ও মৎস্য খামারের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোরপূর্বক ডাইক নির্মাণ ও বালু ডাম্পিং শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ড্রেজিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করে ৬ ফুট বালু ভরাটের উচ্চতার স্থলে জোরপূর্বক বন্দরের সহায়তায় চায়না কোম্পানিটি ৩০ থেকে ৩৫ ফুট উঁচু করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

জমির মালিক ও এলাকাবাসী বলছেন, মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও জলাভূমির শ্রেণি বিন্যাসে হুমকির মুখে পড়বে জীববৈচিত্র্য, শেষ হবে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা। আর ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুমে উড়ো বালুর আগ্রাসনে বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশের শঙ্কায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন শত শত গ্রামবাসী।

তাদের দাবী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনা কোম্পানি পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই ফসলি জমি ও মৎস্য ঘেরে বালু ডাম্পিং করে পাহাড় তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এ জমিতে কোন কৃষি বা শিল্প প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় যতই দিন যাচ্ছে জমির মালিক-সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

দেশী-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন-নির্গমনে চ্যানেল সচল রাখতে আর মোংলা সমুদ্র বন্দরকে উন্নয়নে ৭০০ কোটি টাকার আউটার ড্রেজিংয়ের পর এবার পশুর নদীতে ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চীনা কোম্পানি ‘জেএইচসিইসি এবং সিসিইসিসি’ ঠিকাদার হিসেবে পশুর চ্যানেল খননের কাজটি করে যাচ্ছে। গত ১৩ মার্চ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আ. খালেক ও উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এ কাজের উদ্বোধন করেন। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পশুর চ্যানেলের ড্রেজিং করার জন্য প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংকৃত মাটি পশুর নদীর তীরবর্তী জমি সমূহে ফেলার জন্য ১৫০০ একর জমির অনুকূলে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি থেকে মালিকানা ৭০০ একর জমি হুমুক দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নের ১১ নম্বর চিলা মৌজার বিভিন্ন জমির সাড়ে ৩০০ একর জমি মালিকানা। আর সাড়ে ৩০০ একর রয়েছে কয়েকটি কোম্পানির ক্রয়কৃত জমি। কয়েকটি কোম্পানির সাড়ে ৩০০ একর জমির মালিক হওয়া সত্বেও তাদের না জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও চায়না কোম্পানির লোকজন জোরপূর্বক ঠিকাদার কোম্পানির মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষে বালু ভরাটের কাজ শুরু করে। যে সকল জমিতে মৎস্য ও ধান চাষ চলা অবস্থায় তাদের সেই ঘেরের মধ্যে বালু ভরাট করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে জমির মালিকদের অভিযোগ।

যে সকল জমিতে বালু ভরাট করে ফেলছে যেমন, গ্রামবাসীর মৎস্য ঘের, বসতবাড়ি ও কৃষি জমি, সে সকল জমির অধিগ্রহণ করা ছাড়াই এবং ওই জমির মালিকদের অনুকূলে কোনো ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক কৃষি জমি ও মৎস্য ঘেরে বালু ভরাট করে নষ্ট করে দিয়েছে।

এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের লিখিত নিয়মানুযায়ী রাস্তা লেভেল থেকে যেখানে ৬ ফুট উঁচু করার কথা থাকলেও সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ ফুট উঁচু করে মাটি ভরাট করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এভাবে উঁচু করে জমিতে মাটি বা বালু ফেললে আগামী ১০০ বছরেও উক্ত জমিতে কোনো প্রকার ফসল ফলানো সম্ভব হবে না বা কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব না বলে দাবি মালিকদের।

বালু ভরাটের ফলে এলাকায় বসবাস করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসীর অনেকেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের ফলে গত ৩০ আগস্ট সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের একটি প্রতিনিধি দল ড্রেজিং এলাকায় পরিদর্শনে যায়।

এ সময় ওয়েষ্টান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. লুৎফর রহমানসহ ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই জেলা প্রশাসকের কাছে সবকিছু খুলে বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বালু ভরাটের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান এবং কঠোরভাবে ড্রেজিং কোম্পানি ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ আজিজুর রহমান বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যা দেখলাম, তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণটাই সত্য। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সরকারের নিয়মানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনাদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সবার সম্মিলিতভাবে তা পরিশোধ এবং রাস্তা লেবেল থেকে ৫-৬ ফুট বালু ভরাটের উঁচু করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া যে জমিতে বেশি বালু ভরাট হয়েছে তাতে ষ্কেভেটর দিয়ে তা কমিয়ে লেভেল ঠিক রাখারর জন্য বলেন জেলা প্রশাসক।

ওই কৃষি জমির মালিক ও কোম্পানির প্রতিনিধি লুৎফর রহমান আরও বলেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত হোসেন জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির মালিকগণ নিয়মানুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হবে এবং যে সকল জমিতে বেশি বালু ভরাট করা হয়েছে তাদেরও ক্ষতিপূরণ বা লেভেল ঠিক করে দেওয়া হবে বলে জানায় লুৎফর রহমান।

কোম্পানি প্রতিনিধি মো. লুৎফর রহমান আরও বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করে বালু ভরাট অব্যাহত রেখেছে চায়না কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা। তাই যেখানে বেশি বালু ভরাটের ব্যাপারে কেটে লেভেল করার কথা সেখানে আরও ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু করে ভরাট করছে তারা।

তিনি বলেন, আমি ওয়েষ্টান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির প্রতিনিধি তাই জমির প্রকৃত মালিকদের নির্দেশনায় রোববার দুপুরে বন্দরের ড্রেজিংয়ের ২ ও ৩ নং কম্পার্টমেন্ট’র কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বন্দর চায়না কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে। যতদিন জমির ক্ষতিপূরণ ও বালু ভরাট রাস্তার লেভের ৫-৬ ফুটের মধ্যে আনা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ড্রেজিয়ের বালু ফেলতে দেওয়া হবে না বলে জানায় লুৎফর রহমান।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০