Pallibarta.com | মুরগি ব্যবসার আড়ালে চলত ইয়াবা পাচার - Pallibarta.com

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

মুরগি ব্যবসার আড়ালে চলত ইয়াবা পাচার

মুরগি ব্যবসার আড়ালে চলত ইয়াবা পাচার

মুরগি ব্যবসার আড়ালে চলত ইয়াবা পাচার ।
প্রতিটি ইয়াবার চালান পাঠানোর আগে রিসিভারের ঠিকানায় আসে একটি মোবাইল ফোন ও কোড নম্বর। মোবাইল ফোন যার কাছে একমাত্র তিনিই জানেন কোথায় আছে চালানটি। তাগাড়ির মধ্যে বিশেষ চেম্বার বানিয়ে ইয়াবা চোরাচালানের একটি নেটওয়ার্কের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পেরেছে তাদের কৌশলটি সম্পর্কে। পুলিশ বলছে, কুরিয়ারে তাগাড়ি পাঠানোর আড়ালে চক্রটি নিয়মিত ইয়াবা চোরাচালান করত।

তাগাড়িতে করে ইয়াবা চোরাচালান হচ্ছে এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। চারটি তাগাড়ি তল্লাশি করে কোথাও ইয়াবার অস্তিত্ব না পেয়ে হতাশ গোয়েন্দারা। তবে একটিতে ব্যতিক্রম দেখতে পান তারা, যার নিচে বিশেষ চেম্বার। সেটি আবার স্ক্রু দিয়ে আটকানো। স্ক্রু খুলতেই বেরিয়ে আসে প্যাকেট ভর্তি ইয়াবা।

চারজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ জানা যায়, কক্সবাজারের রামু থেকে চালানটি ঢাকায় পাঠায় ইয়াবা কারবারি রইসুল। উত্তরার মুরগি ব্যবসায়ী নজরুল চালানটি গ্রহণ করে পাঠানোর কথা ছিল সাভারের লিখনের কাছে। লিখন সেটি সহযোগী সাইফুল ও নুর আলমের সহযোগিতায় পাঠাত শরীয়তপুরের সুজনের কাছ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তরা বিভাগ) অতিরিক্ত উপকমিশনার বদরুজ্জামান জিলু বলেন, আমরা সবাই জানি কুরিয়ার করার সময় একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হয় বা একটি কোর্ড নম্বর দেওয়া হয়। যার ভিত্তিতে আমরা সেই মালামালটা তুলতে পারি। এই বিষয়টাকে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে ইয়াবার চালানের জন্য।

কক্সবাজার থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে তারা মাদকদ্রব্য পাচার করছিল। ঢাকার বিভিন্ন আউটলেট থেকে তারা এ মালগুলো তুলছিল। আমরা যখন এ চালানটি ধরি তখন কোনো মতে বোঝা যাচ্ছিল না কোথায় রাখা আছে সেগুলো। তারা সুকৌশলে তাগাড়ির মধ্যে বিশেষ চেম্বার বানিয়ে ইয়াবা চোরাচালান করছিল সেটা ধরা পড়ে। একজন মুরগি ব্যবসায়ী পাওয়া গেছে যে এ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা চোরাচালান করে আসছিল বলে জানান তিনি।

শুধু পরিবহন নয় এরা যোগাযোগও করে বিশেষ কায়দায়। প্রতিটি চালান আসার আগে নজরুলের কাছে আসে একটি মোবাইল ও কোড নম্বর। কুরিয়ারে রিসিভার হিসেবে দেওয়া থাকে সেই নম্বরটি। ইয়াবা কুরিয়ার করার পরই সচল হয় সেই ফোন। চালান বুঝে পাওয়ার পর ফেলে দেওয়া হয় মোবাইলটি জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

পুলিশ বলছে, চাহিদা না কমলেও এভাবেই একের পর এক নিত্যনতুন কায়দায় মাদক পরিবহন করবে কারবারিরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তরা বিভাগ) অতিরিক্ত কমিশনার কাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, যতক্ষণ চাহিদা থাকবে ততক্ষণ তার সরবরাহ থাকবে। চাহিদাকে যদি আমরা সংক্ষিপ্ত করতে পারি তাহলে এই যে মাদক চোরাচালান অনেকটা কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের যে ভয়াবহতা সেটা নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকে রাষ্ট্র সবারই নিজ নিজ দায়িত্ব থাকে। যেমন অভিভাবকদের দায়িত্ব তাদের সন্তান কি করছে সেটা দেখা, আবার রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে এই মাদক দেশের বাইরে থেকে আসছে, কীভাবে আসছে সেটাকে প্রতিহত করা। যেহেতু মাদক বাংলাদেশে তৈরি হয় না, তাই যে যেখানে দায়িত্বে আছেন তাদেরও ‍সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করা। তাহলে মাদক আসা বন্ধ হয়ে যাবে।

ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র সবার সঠিক দায়িত্ব পালনই কেবল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মাদকের আগ্রাসন বলছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১