তথ্য ও প্রযুক্তিফিচারশিক্ষাশীর্ষ-২সাহিত্যস্বাস্থ্য

মাইক্রোস্ক‌োপে‌ মানবশরীর

`ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল; গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।` সত্যিই মানবশরীর ও এর ব্যতিক্রম নয়। ইটের উপর ইট সাজিয়ে যেমন দেয়াল তৈরি হয়, তেমনি কোষের ওপর কোষ সাজিয়ে তৈরি হয়েছে মানুষের এই দেহ। মানবদেহের গঠনগত এবং কার্যগত একক কোষ বা সেল। কোষের গাঠনিক এবং কাজের দিক বিবেচনায়, কোষকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। তবে একটি আদর্শ প্রাণী কোষের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আজ তার কিছু সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানতে চাইবো।
কোষঝিল্লি বা সেল মেমব্রেন হলো প্রাণী কোষের সবচেয়ে বাইরের গঠন যা কোষ কে ঘিরে রাখে। এর মাঝ দিয়ে কোষ তার প্রয়োজনীয় বস্তুর প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে। সেল মেমব্রেন এর ভেতরের সবটুকু কে ই সাইটোপ্লাজম বলে। এটি একটি জটিল কলয়ডাল বা দানাদার পদার্থএর সমষ্টি। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্রাণকেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস সম্পর্কে কিছু আলোচনা না করলেই নয়। কেননা একটি কোষের সব কাজের প্রোগ্রাম এই নিউক্লিয়াসএই নির্ধারিত হয়। নিউক্লিয়াসস্ত ক্রোমোজোমের সংখ্যা এবং প্রকৃতির পার্থক্যের জন্য প্রতিটি জীব ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এই ক্রোমোজোমের মূল বৈশিষ্ট্যগত একক হল  জিন। যার রাসায়নিক নাম ডি-অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা ডি এন এ। ডিএনএ ম্যাচিং বর্তমানে খুবই প্রচলিত একটি শব্দ। ডিএনএ সিকোয়েন্স ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় প্রত্যেকটি জীব আলাদা আলাদা সত্ত্বা। অর্থাৎ দুটি ভিন্ন জীবের বা একই জীবের ভিন্ন ভিন্ন কোষের ডিএনএ সিকোয়েন্স মেলার কোন সম্ভাবনা নেই। তাইতো দুটি ভিন্ন জীব বা দুটি ভিন্ন কোষের হুবহু বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়না। তবে হ্যাঁ, একই টিস্যুর অন্তর্ভুক্ত কোষ বা একটি নির্দিষ্ট জীব অথবা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কোষে ডিএনএ এর কাছাকাছি সিকোয়েন্স লক্ষ করা যায়। তাইতো ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে সন্তান সনাক্তকরণ সম্ভব হয়।
মাইটোকনড্রিয়া কোষের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। ধারণা করা হয়, অতি প্রাচীনকালে আলাদা জীবসত্তা হিসেবে প্রকৃতিতে এটির অস্তিত্ব ছিল। কালের আবর্তে প্রাণী কোষের অভ্যন্তরে জায়গা করে নেয় মাইটোকনড্রিয়া। প্রাণী কোষের শ্বসন প্রক্রিয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রেবস চক্র, যা শক্তি উৎপাদ‌নের অতিগুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি সংঘটিত হয় মাইটোকনড্রিয়াতে। তাইতো মাইটোকনড্রিয়া কে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়।
গলগী বডি নিয়ে যদি বলতে হয়-এক কথায়, কোষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের প্যাকেজিং এর কাজটি গলগী বডি করে থাকে। কোষের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা নিউক্লিয়াসের আশেপাশেই গলগী বডি অবস্থান করে। লাইসোজোম এমন একটা অঙ্গানু, যা অনেকটা প্রশাসনের ভূমিকা পালন করে। কোষের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর বা অপরিচিত অংশকে হজম করে কোষকে শত্রুমুক্ত করে।
এক কথায়, পুরো কোষ যেন এক সুবিন্যাস্ত ব্যবস্থাপনায় সুগঠিত আণুবীক্ষণিক ডিভাইসের বিস্ময়কর সমাহার, আর অগণিত কোষের সমাহারই আমাদের এই শরীর।

আহমদ ফুয়াদ, physician.bd@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button