Pallibarta.com | ভোটকেন্দ্রে পরিণত টিকাকেন্দ্রঃ কাউন্সিলরের দখলে কেন্দ্র! Page

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১

ভোটকেন্দ্রে পরিণত টিকাকেন্দ্রঃ কাউন্সিলরের দখলে কেন্দ্র!

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সালেহ স্ত্রীকে করোনার টিকা দিতে নিয়ে আসেন নগরীর আতুড়ার ডিপো এলাকার আশেকানে ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তারা।

প্রায় ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা দিতে পারেননি তারা। এই কেন্দ্রে যে ৩০০ টিকা ছিল সবগুলো শেষ হয়ে গেছে তাদের সিরিয়াল আসতে আসতে। সকাল ১১টার দিকে জানানো হল, ভেতরে টিকা নেই।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ বলেন, ‘কাউন্সিলরের লোকজন টিকাকেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। এখন টোকেন নিয়ে ভেতরে গিয়ে তারা টিকা নিচ্ছে। আর আমাদের এতোক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছে।
যদি বলতো তাদের লোকদেরকেই আজকে টিকা দিবে। তাহলে আমরা এসে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। আর না হয় কাউন্সিলরের কাছে গিয়ে একটি টোকেন নিয়ে আসতাম।

এভাবে সরকার ঘোষিত গণটিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ২৫ বছরের বেশি বয়সী অসুস্থ মানুষ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার কথা থাকলেও নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাজনীতিবিদ ও কাউন্সিলরের বিশেষ টোকেনে করোনার টিকা মিলছে। কাউন্সিলরের কাছ থেকে টোকেন না পাওয়ায় ব্যাংকার আবু সালেহের মতো অনেকেই টিকা না নিয়ে ফিরে গেছে প্রথম দিন। সরজমিন আরও কয়েকটি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় একই অবস্থা। সব জায়গায় টিকা নিতে মানুষের লম্বা লাইন। সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ টিকা কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। উঠতি বয়সের অনেকে বিশেষ টোকেন নিয়ে লাইন এড়িয়ে টিকাকেন্দ্রে ঢুকে পড়েছে। এ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। নগরীর এ রকম একটি কেন্দ্রে পুলিশ লাঠিচার্জও করেছে। জানা যায়, গতকাল সকাল ৯টায় চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী নগরের ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুলে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর ও চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শহর ও মফস্বল মিলিয়ে চট্টগ্রামের ৩২৬টি কেন্দ্রে গণটিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪১নং ওয়ার্ডের ১২৩টি বুথে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩টি করে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিনে মহানগরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকার বসবাসরতরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা দিয়েছেন। এই বিষয়ে সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা কাউকে টোকেন দিয়ে টিকা দিতে বলিনি। এ রকম কেউ করলে তারা ভুল করেছে। আমরা কেবল টিকা কেন্দ্রের পরিবেশ ঠিক রাখতে স্থানীয় কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দিয়েছি।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১