পল্লী সংবাদশীর্ষ-৪

বরিশালে গণপরিবহন শ্রমিকদের পাশে নেই কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বরিশাল নদী বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে সাতটি বিশাল লঞ্চ ছেড়ে যেতো ঢাকার উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকে প্রতিদিন ফিরতোও সমপরিমাণ লঞ্চ। এছাড়া আশেপাশের জেলাগুলোতে নৌপথে যাত্রী পরিবহন করতো এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া শ’খানেক ছোট লঞ্চ। যেকারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জনাকীর্ণ থাকতো জায়গাটি। তবে আজ শুক্রবার বিকেলে সেখানে গিয়ে পাওয়া গেলো বিপরীত চিত্র। একদম সুনসান নীরবতা পুরো বন্দর জুড়ে, কোথাও নেই কিঞ্চিৎ কোলাহল।

নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালেও পাওয়া গেলো একই নীরবতা।দেশের পূর্ব ও দক্ষিণের প্রায় ৯ টি জেলাতে যাত্রী পরিবহন করতো এই টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো। কিন্তু চলমান লকডাউন এবং এর আগের বিধিনিষেধে গত ১১ দিন যাবৎ ঘুড়ছে না বাসের চাকা। একই কারণে নদীবন্দর থেকেও ছেড়ে যায়নি কোন লঞ্চ। আর এই যানবাহনগুলো বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পতিত হয়েছে এসব বাস বা লঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত শ্রমিকেরা।

জানা গেছে, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউন আর এর আগে গত ৫ই এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের সরকারি বিধিনিষেধ পালনে বন্ধ আছে গণপরিবহন। কিন্তু এই বন্ধে থামানো যায় নি পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের উপার্জন কমে যাওয়া। যে সকল শ্রমিকেরা দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করতো তারা পরেছে সবচেয়ে বিপাকে। কিন্তু লকডাউনে অসহায় এসব শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায় নি মালিক, প্রশাসন কিংবা সরকার। এতে ক্ষুব্ধ বরিশালের সচেতন মহল।

বরিশাল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, সাধারণত বাসের ড্রাইভার, হেলপার, কন্ট্রাক্টর সহ অন্যান্য শ্রমিকেরা দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি পায়।

গত ৫ই এপ্রিল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এতদিন তারা এক প্রকার বেকার রয়েছেন।তবু এখন পর্যন্ত সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য তারা পান নি। তবে একেবারে যাদের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন তাদেরকে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা করা হয়েছে।

জেলার বাস শ্রমিকদের এমন চিত্র অবলীলায় মিলে যায় লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গেও। বরিশাল – ঢাকা রুটের একটি যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চের সুপারভাইজার সেলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, লঞ্চ চলে না তাই মালিকদের ইনকাম নেই। তবুও আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিছু টাকা দিচ্ছে তারা।এতে কোনোরকমে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। তবে সরকার বা প্রশাসনের সহায়তা পেলে কিছুটা দুঃশ্চিন্তাহীন থাকা যেত।

লকডাউনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সরকার থেকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কয়েকদিন যাবৎ আন্দোলন করে আসছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা।দলটির পক্ষ থেকে আগামীকাল শনিবার নগরীরতে অভিনব রিকশা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।সংগঠনটির সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বলেন, চলমান লকডাউনে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজের নিম্ন – স্বল্প আয়ের দিনমজুর মানুষেরা। আমরা চাই সরকার এসব মানুষদের তালিকা করে জরুরী আর্থিক ও রেশনিং ব্যবস্থায় খাদ্য সহায়তা দিক।

তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে আমরা এসব পরিবহনের মালিকদের নিয়ে বসেছিলাম। তখন তারা জানিয়েছিল প্রাথমিকভাবে মালিকরাই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াবে। তারপরও যদি শ্রমিকেরা অভুক্ত থাকে তবে মালিক পক্ষগুলোই এজন্য দায়ী।

তিনি আরো বলেন, তবে লকডাউনে দিন আনে দিন খায় এমন যারা সমস্যায় পরেছে তাদের পাশে আছে সরকার। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যাদের জরুরী খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন তারা স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। নগরীর বাইরে উপজেলা প্রশাসন অসহায় মানুষদের সাহায্য করবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button