Pallibarta.com | বনের জমি বিক্রি করে পকেটে দেড়শ কোটি টাকা - Pallibarta.com

বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

বনের জমি বিক্রি করে পকেটে দেড়শ কোটি টাকা

বনের জমি বিক্রি করে পকেটে দেড়শ কোটি টাকা

সাভারে বন বিভাগের সরকারি জমি ভুয়া দলিল তৈরি করে একটি আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। নেতার নাম আবদুল হালিম ওরফে ‘হালিম নেতা’। তিনি বিরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এ ছাড়া তিনি একজন দলিল লেখক। জালিয়াতির মাধ্যমে বনের জমি বিক্রি করার অভিযোগে ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ। আদালতে মামলার পর গত রোববার রাতে সিআইডি অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজা মোক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আবদুল হালিম পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- বিরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হালিম, তার ভাই আবদুল মালেক, ভাতিজা মোক্তার হোসেন, সহযোগী কবির হোসেন হাওলাদার ও আবাসন প্রতিষ্ঠান গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মালিক এ কে এম মজিবুল হক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাভার সাব-বন বিটের আওতাভুক্ত বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর মৌজার সিএস ও এসএ ২২৩, ২৫৩ এবং আরএস ৬৪৪, ৬৪৬, ৬৪২ ও ৬৪৩ নম্বর দাগের অন্যান্য সম্পত্তিসহ ১ দশমিক ৮২ একর জমির মালিক ও ভোগ দখলকারী ঢাকা বন বিভাগ। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ওই জমির ভুয়া দলিল তৈরি করেন আবদুল হালিম। পরে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করে আম-মোক্তারনামা দলিল সম্পাদন করে তা গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কাছে বিক্রি করেন।

ঢাকা বন বিভাগের কালিয়াকৈর রেঞ্জের বাড়ইপাড়া বিটের ফরেস্টার শহীদুল আলম জানান, বিক্রি করে দেওয়ার জমির মূল্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। সম্প্রতি অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বন বিভাগের জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রির বিষয়টি নজরে আসে।

স্থানীয় কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী কৃষিবিদ ওয়েস্ট ভিউ নামক আরও একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান আমার নিজস্ব প্রায় তিন একর জমি জবরদখল করে রেখেছে। এ ছাড়া তারা বন বিভাগেরও প্রায় ২০ একর জমি দখল করে রেখেছে। তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ সরকারি জমি বিক্রির চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন জানান, সরকারি জমি অবৈধভাবে যারাই দখল করবে কিংবা জালিয়াতির মাধ্যমে কেনাবেচা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্নিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এতে দলের কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বারবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল কুদ্দুস বলেন, সিআইডি পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১