অপরাধবরিশালশীর্ষ-১

ফসলি জমিতে যাত্রী ছাউনি

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:

রাস্তা কিংবা বাজারের পাশে নয়, ফসলি জমির মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি। সরকারের টাকা গচ্চা দিয়ে নিজ বাড়ির প্রবেশ পথে ওই যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন জনপ্রতিনিধি।

এ ঘটনা বরিশাল জল্লা ইউনিয়নের কুড়লিয়া গ্রামে এ চিত্র দেখা যায়। সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে উজিরপুর উপজেলার জল্লা কুড়লিয়া বাজারের দক্ষিণ দিকে রাস্তার পাশে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

জেলা পরিষদের সদস্য ও জল্লা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈ’র সৌজন্যে তার নিজ গ্রামে ওই যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়লিয়া জুনিয়র বাজার সংলগ্ন সাতলা-কারফা সড়কের পাশের এই প্রকল্পটি রাস্তা ছাড়িয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে ফসলি জমির মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় হারতা বাজারে যাতায়াতের জন্য গ্রামের মধ্যকার ফসলি জমি লাগোয়া ইট বিছানো (সলিং) সরু রাস্তার পাশে টিনশেড যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। যা জেলা পরিষদের নারী সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ’র নিজ বাড়ির প্রবেশ পথ লাগোয়া।

একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি ফসলের মাঠে ঝুঁকিপূর্ণ ওই যাত্রী ছাউনির গায়ে লাগানো প্রকল্প বাস্তবায়নের নামফলকে লেখা রয়েছে, ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে ‘মেসার্স মা-বাবার দোয়া ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে জেলা পরিষদ, বরিশাল এবং সৌজন্যে জেলা পরিষদের সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ওই যাত্রী ছাউনি সাধারণ পথচারী কিংবা স্থানীয়দের কোন উপকারে আসবেনা। বরং সরকারকে ধোঁকা দিয়ে উন্নয়নের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ হালদার (৫৩) ও পথচারী পলি জাহানসহ (২৬) অনেকে জানিয়েছেন, ওই যাত্রী ছাউনিটি বাজার অথবা মূল সড়কের পাশে নির্মিত হলে পথচারীরা ও এলাকাবাসী সুবিধা ভোগ করতেন। কিন্তু সেটা না করে ফসলের মাঠে যাত্রী ছাউনি নির্মাণে সরকারের অর্থ অপব্যয় করা হয়েছে। এই যাত্রী ছাউনি কারও উপকারে আসবেনা।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে যার সৌজন্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে সেই জেলা পরিষদের নারী সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ’র সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যাত্রী ছাউনির জন্য কেউ জায়গা না দেয়ায় বাজারের মধ্যে ও রাস্তার পাশে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই ফসলি মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button