আইন-আদালতশীর্ষ-১শীর্ষ-২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে বোমা রাখার মামলার রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে বোমা রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ আজ। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রত্যাশা করছেন ন্যায়বিচার।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষ) আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টুঙ্গিপাড়ার কোটালীপাড়ায় সমাবেশস্থলে বোমা রাখা মামলার রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন আদালত। আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। রায়ে সকল আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হবে বলে আশা করছি।’

আসামি পক্ষের আইনজীবী শহিদ উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আমরা আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি যে তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। তাই তিনি খালাস পাবেন।’ আর অপর আসামিদের আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে গত ১১ মার্চ রায় ঘোষণার জন্য ২৩ মার্চ আজকের দিন ধার্য করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

মামলায় আসামিরা হচ্ছেন- মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ, মো. লোকমান, মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল, মোছহাব হাসান ওরফে রাশু, শেখ মো. এনামুল হক, মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ, মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল, মো. তারেক, মো. ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান, মো. আনিসুল ইসলাম ও সারোয়ার হোসেন মিয়া। আসামিদের মধ্যে মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সী ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান জামিনে রয়েছেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২১ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজ মাঠের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। পরের দিন সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ হওয়ার কথা ছিলো।

এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর সিআইডির সাবেক এএসপি আব্দুল কাহার আকন্দ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button