Pallibarta.com | প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেলাম, বাবাকে নির্যাতনের বিচার পেলাম না। Separato

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেলাম, বাবাকে নির্যাতনের বিচার পেলাম না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ৪ বার পুরস্কার পেয়েছি। আরও দু’বার পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এই দু’বারের পুরস্কার অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট স্কাউট পদক পেয়েছি। আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছি। এত পুরস্কার পাওয়ার পরেও প্রশাসনসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আমি আমার পিতাকে নির্যাতনের বিচার পেলাম না!

এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জয়। সাব্বির হোসেন জয় কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মিজানুর রহমান তালুকদারের ছেলে।

সে ২০১৫ সালের শিশু দিবসে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ জেলায় প্রথম, ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগে দ্বিতীয়, ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, ২০২০ সালের ১৭মার্চ বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এছাড়াও সাব্বির হোসেন জয় প্রেসিডেন্ট স্কাউট পদক ও আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে তৃতীয় স্থান অধিকারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

সাব্বির হোসেন জয়ের মা স্বপ্না রহমান বলেন, আমার প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক ফিরোজা খানম আমাদের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। আমরা বাঁধা দিতে গেলে সে একাধিকবার লোকজন নিয়ে আমার স্বামীকে মারধর করেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সে আমার স্বামীকে লোকজন নিয়ে মারধর করে। আমার স্বামী বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির হোসেন জয়ের পিতা মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, ফিরোজা বেগম যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করছেন সেই জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এছাড়াও ওই জায়গার ওপর ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। ফিরোজা বেগম এই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণ করছেন। আমি বাঁধা দিতে গেলে সে লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর করেন।

মিজানুর রহমান তালুকদার আরও বলেন, ফিরোজা খানমের স্বামী জালাল উদ্দিন ফকির সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। তার কথা বলে ফিরোজা বেগম প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি দেয়। সর্বশেষ তিনি গত শুক্রবার লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে আমার স্ত্রী স্বপ্না রহমান বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সাব্বির হোসেন জয় বলেন, এ নিয়ে ফিরোজা খানম আমার পিতাকে তিনবার মারধর করেছেন। এ ঘটনার বিচারের জন্য আমি একজন শিশু হয়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বারবার গিয়েছি। আমি এর কোনো বিচার পাইনি। এখন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকার একজন গৃহিণী বলেন, শিক্ষক ফিরোজা খানম একজন খারাপ প্রকৃতির মহিলা। আমাদের মহল্লার প্রায় ১০টি পরিবার প্রতিনিয়ত তার দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। মিজানুর রহমান তালুকদারের মতো সে একাধিক ব্যক্তিকে লোকজন নিয়ে মারধর করেছেন।

এ বিষয়ে ফিরোজা খানমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অবৈধভাবে জায়গা দখল ও মিজানুর রহমান তালুকদারকে মারধরের কথা অস্বীকার করেন।

স্বপ্না রহমানের অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটালীপাড়া থানার এসআই আজাদ বলেন, অভিযোগটির তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১