Pallibarta.com | পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড! পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড!

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড!

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত জুনের প্রথম ২৫ দিনে ৪৪ হাজার ৭৭৬ একক কনটেইনারে রপ্তানি পণ্য বিদেশে গেছে।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এতে ঈদের ছুটির পর প্রায় সব শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। তারপরও চলতি জুলাই মাসে পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড হতে যাচ্ছে। ফলে মহামারির মধ্যেও চলতি ২০২১–২২ অর্থবছরের প্রথম মাস (জুলাই) শেষে পণ্য রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি ডিপোর একাধিক সূত্র জানায়, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৫৮ হাজার ২৬৪ একক পণ্যবাহী কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এ সময়ে বেসরকারি ডিপোতে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মনোনীত কোম্পানির কাছে ১২ হাজার ৯৭৯ একক পণ্যবাহী কনটেইনার বুঝিয়ে দিয়েছে রপ্তানিকারকেরা। আবার ডিপোর বাইরে ক্রেতাদের মনোনীত কোম্পানির হাতে বুঝিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছে রপ্তানি পণ্যবাহী অসংখ্য কাভার্ড ভ্যান।

পণ্য রপ্তানিতে তিন দশক ধরে ছড়ি ঘোড়াচ্ছে তৈরি পোশাক। বিদায়ী ২০২০–২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে। তার মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই এসেছে ৮১ শতাংশ বা ৩ হাজার ১৪৬ কোটি ডলার। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী কনটেইনারের সিংহভাগই তৈরি পোশাকের। পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন বাড়লে পাল্লা দিয়ে পোশাক রপ্তানিও বাড়ে।

কয়েকজন পোশাক রপ্তানিকারক জানান, ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। সে জন্য আগামী শীত ও বড়দিনের পোশাকের প্রচুর ক্রয়াদেশ পেয়েছে কারখানাগুলো। ঈদের বন্ধ ও বিধিনিষেধের কারণে কারখানা লম্বা সময় বন্ধ থাকবে সে কারণে সব প্রতিষ্ঠানই ঈদের আগে স্বাভাবিক সময়ের বেশি ওভারটাইম করিয়ে পণ্য প্রস্তুত করেছে। কিছু কারখানা ঈদের ছুটির সময়ও উৎপাদন চালিয়েছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম গণমাধ্যমে বলেন, সারা বছরের মধ্যে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়। এই সময় শীতের পোশাক বেশি যায়। এসব পোশাকের দাম বেশি এবং কনটেইনারে জায়গাও বেশি নিয়ে থাকে। আর শীতের পোশাকের প্রচুর ক্রয়াদেশ আসায় চলতি মাসে রপ্তানি বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও এখনো রপ্তানি আয়ে তার পুরোপুরি প্রতিফলন হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরাত দিয়ে বিজিএমইএ জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম ২৬ দিনে ২২৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ শতাংশ কম। গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম ২৬ দিনে রপ্তানি হয়েছিল ২৪২ কোটি ডলারের পণ্য।

সারা বছরের মধ্যে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়। এই সময় শীতের পোশাক বেশি যায়। এসব পোশাকের দাম বেশি এবং কনটেইনারে জায়গাও বেশি নিয়ে থাকে।
শহিদউল্লাহ আজিম , সহসভাপতি, বিজিএমইএ

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার আগে দিনরাত কাজ করে অনেক কারখানা পণ্য রপ্তানি করেছে। ঈদের দশ দিন পর যেসব পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল সেগুলোও আগেই প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে। সে জন্য মাসের প্রথম ২৫ দিনে পণ্যবাহী কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে বেশি। তবে চলমান বিধিনিষেধের কারণে আগামী মাসে রপ্তানি কমে যাবে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১