Pallibarta.com | নাটোরে কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় - Pallibarta.com

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১

নাটোরে কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়

নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক কন্যাশিশুকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি গোপন করতে শিশুটির লাশ দুই দফা গুম করা হয়। রোববার সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এ তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর শিশুর বাবা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ওই কন্যাশিশুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা এক শিশু (১৪) ও তাঁর বাবাকে (৪০) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিশু পুলিশের কাছে ওই কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর গলা চেপে ধরে ও হাঁসুয়া দিয়ে আঘাত করে হত্যা করার কথা জানিয়েছে। তার বাবা ঘটনা গোপন রাখার জন্য নিহত শিশুর লাশ দুই দফা গুম করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি রোববার দুপুরে নাটোরের একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই শিশুটির বাবার বরাত দিয়ে জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মেয়ে পাশের এক বাড়িতে বনভোজন করতে যায়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সবার সঙ্গে সে ছিল। দুপুরের খাবার আগে সবাই গোসল করতে গেলেও তাঁর মেয়ে অভিযুক্ত শিশুর বাড়িতে টিভি দেখতে শুরু করে। মা–বাবার অনুপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিশুটি তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ সময় তাঁর মেয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার গলা চেপে ধরা হয়। তাতে তাঁর মেয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে সে হাঁসুয়ার উল্টো পিঠ দিয়ে তাঁর মেয়ের ঘাড়ে আঘাত করে।

স্থানীয় এক আইনজীবীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ধানখেত থেকে ওই কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শিশু ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাঁসুয়া জব্দ করা হয়।

রোববার দুপুরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার শিশু ও তার বাবাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করে পুলিশ। অভিযুক্ত শিশু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়নি। তবে ওই শিশুর বাবার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুর রহমান জানান, ওই কন্যাশিশুর লাশের ময়নাতদন্ত নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যা ও ধর্ষণের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান ও লালপুর থানার ওসি ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০