Pallibarta.com | নদীর তীরের ইজারা ফি আড়াই লাখ টাকা , দৈনিক আদায় ১ লাখ ! - Pallibarta.com

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

নদীর তীরের ইজারা ফি আড়াই লাখ টাকা , দৈনিক আদায় ১ লাখ !

নদীর তীরের ইজারা ফি আড়াই লাখ টাকা দৈনিক আদায় ১ লাখ !

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় মেঘনা নদীর দুই তীরের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা সম্প্রতি ইজারা প্রদান করে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ ঘটনার পর থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকার নৌকার মাঝি, কৃষক শ্রমিকসহ আশুগঞ্জ এলাকার পাঁচ গ্রামের সাধারণ মানুষ।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রামবাসী আশুগঞ্জ মেঘনার তীরে মানববন্ধন করেন। এ অবস্থায় বিআইডব্লিওটিএ এর কর্মকর্তা বলছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। তদন্ত করে সত্যতা পেলে ইজারা বাতিল করা হবে।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানায়, আশুগঞ্জ উপজেলার পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড এর কৃত্রিম খাল থেকে উপজেলার তাজপুর এলাকা পর্যন্ত মেঘনার দুই তীরের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার প্লাবন ভূমি এলাকাকে গত ২৪ আগস্ট থেকে ১০ মাসের জন্য ইজারা প্রদান করে বিআইডব্লিউটিএ। ইজারা পান উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে মো. মহিউদ্দিন মোল্লা। এরপর থেকে ইজারাদারের লোকজন রশিদের মাধ্যমে নৌকার মাঝি, শ্রমিক, জেলে, ড্রেজার মালিকসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠে।

এমন ঘটনায় ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে আশুগঞ্জ তাজপুর, দূর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও সোনারামপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ আশুগঞ্জ মেঘনার তীরে জড়ো হয়ে ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, কোনো ধরনের ঘাট, পল্টন এমনকি যোগাযোগের জন্য গ্রামের রাস্তা না থাকলেও মেঘনার প্লাবন ভূমি ও কৃষি জমিকে ইজারা প্রদান করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে ইজারা বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ এর আশুগঞ্জ-ভৈরব নৌবন্দরের উপপরিচালক শহীদ উল্লাহ এর অপসারণ দাবি করেন।

আশুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আশিকুল ইসলাম মিদন বলেন, মেঘনার দুই তীরের ৫ কিলোমিটার এলাকা ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ইজারা দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতিদিন দুই পাড় থেকে লাখ টাকা জোর করে আদায় করা হচ্ছে। মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে টাকা আদায় করছে ইজারাদার।

নৌকার মাঝি বাবুল মিয়া বলেন, আমি মালিকের কাছে দেওয়ার জন্য একটা রশিদ দিয়ে গেছে। এক নৌকায় ৬-৭ হাজার ফুট বালু নিতে পারি। প্রতি ফুট ২৫ পয়সা করে হিসাব করে টাকা দেওয়ার কথা বলে গেছে ইজারাদারের লোকজন।

তবে ইজারা গ্রহীতা মো. মহিউদ্দিন মোল্লা জানান, যেখানে বালু ইট লোড-আনলোড হয় সেখানে প্রতিটি মালামালের নির্দিষ্ট দর আছে। যদি কেউ অভিযোগ করে জোর করে আদায় করা হচ্ছে তাহলে সেটি ভুয়া কথা। তিনি দাবি করেন, বিআইডব্লিউটিএ এর শর্ত অনুযায়ী তিনি ইজারা আদায় করছেন।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ আশুগঞ্জ-ভৈরব নৌবন্দরের উপ-পরিচালক শহীদ উল্লাহ বলেন, আমাদের এখান থেকে টেন্ডার দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। আমরা এগুলো ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। টেন্ডারগুলো তিন জায়গায় হয়। আমাদের এখানে, ঢাকা প্রধান কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ে। যে কেউ ঢাকা থেকেও টেন্ডার গ্রহণ করতে পারে। এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে ইজারা শর্ত ভঙ্গ পাওয়া গেলে অবশ্যই ইজারা বাতিল করা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি করে অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইজারা বাতিল করা হবে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, এলাকাবাসীর আন্দোলনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে বিআইডব্লিউটিএর সাথে কথা বলা হবে। যদি কোনো অনিয়ম দুর্নীতি হয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে কিংবা অভিযোগ পেলে সেগুলো খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ১০ মাসের জন্য ইজারা প্রদান করা হয় আশুগঞ্জ মেঘনার দুই তীর।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০