অপরাধআইন-আদালতএক্সক্লুসিভজাতীয়ঢাকাপ্রচ্ছদমহানগরমিডিয়ারাজধানীশীর্ষ-১সাধারণ ক্যাটাগরি

ঢাকায় বসেই ৯৬ থানার মনিটরিং

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার ৯৬ থানাতে রিমোট মনিটরিং সিস্টেম চালু করেছে ডিআইজি অফিস। থানার ডিউটি অফিসার, হাজতখানা এবং সেন্ট্রি ডিউটি পোস্ট, অফিসার ইনচার্জ কক্ষসহ পুরো থানায় এই সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। সেবাপ্রত্যাশীদের নিকট ২৪ ঘণ্টায়ই একটি বিশেষ টিম ফোন করে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকেন। পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। যাতে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভয় ভাঙে এবং তা বন্ধনে বদলে যায়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রেঞ্চ ডিআইজি কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতিটি থানায় তিনটি করে মোট ২২৮টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যেগুলো আশপাশের দৃশ্যও দেখা যায়। এতে করে অভিযোগকারীরা কোনো প্রকার ভোগান্তিতে ছাড়াই মামলায় কিংবা জিডি করতে পারবেন। রাজবাড়ি থানার ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বলছেন একজন সেবাপ্রত্যাশী। ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সেই ডিউটি অফিসারের তৎপরতা পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত একটি টিম। হঠাৎ করেই অডিও-ভিডিও সাপোর্টেবল ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে মনিটরিং টিম। যার কারণে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ থাকছে না। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। একযোগে এক মনিটরে, সব থানা পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে। শুধু তাই-ই নয়, অনিয়ম করলেই দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা। সেন্ট্রিবক্সে বসানো আছে নাইট ভিশন মালটিকালার আইপি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি দেখা যাচ্ছে অপারেশন্স কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার থেকে। গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অপারেশন্স কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৯৬ থানাকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়। জিডি কিংবা মামলা হওয়ার পর বাদীকে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ফোন করা হচ্ছে। নানা বিষয় বাদীদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। মনিটরিংয়ের শুরুতে অভিযোগের সত্যতা মিলে গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, পুলিশের আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশই হবে জনগণের প্রথম ভরসার স্থল। কোনো প্রকার দুর্নীতি করা যাবে না। পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। ঢাকা রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করবেন একজন ইন্সপেক্টর, একজন এসআই ও দু’জন কনস্টেবল। অতিরিক্ত ডিআইজি (অপস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) ও অতিরিক্ত এসপি (অপস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) তা তদারকি করবেন। ইন্সপেক্টর (অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) অফিস সময়ে কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা জনসাধারণের সঙ্গে ফোন করে জানা হয় থানায় এসে সঠিকভাবে সেবা পেয়েছে কিনা। কোনো গাফিলতি কিংবা অনিয়ম পেলেই ওই থানা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো নিপীড়ন নয়, সঠিকভাবে সেবা দানই মূখ্য। এ বিষয়ে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছি। প্রত্যেক থানায় ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে মনিটরিং সেন্টারে। ক্যামেরাগুলোতে রয়েছে জুম ক্যাপাসিটি। থানায় কি ঘটছে তা ঢাকা বসে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশের অ্যালার্টনেস আগের চেয়ে অনেক বেশি এসেছে এই মনিটরিংয়ের জন্য। পুলিশের সেবা প্রদানের মূল কেন্দ্র হলো থানা। তাই পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button