Pallibarta.com | টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন - Pallibarta.com

বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১

টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন ।
নাটোরের গুরুদাসপুরে টাকার জন্য আবুল কাশেম (৪৫) নামে এক আদম ব্যবসায়ী বন্ধুর হাতে খুন হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাজিরপুর ডিগ্রি কলেজ গেটে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কাশেমের বাড়ি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হাজি সায়েদ আলী মোল্লার ছেলে। কাসেম পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। পরিবারে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

একই ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে কেনাল (৪৪) কাসেমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বলে জানা গেছে। কেনালও পেশায় ব্যবসায়ী। ঘটনার পর থেকে কেনাল পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেম ও কেনাল পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কাসেম ইরাক প্রবাসী ছিলেন। সেখান থেকে প্রায় ৫ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কেনাল বন্ধু কাশেমের দারস্ত হন। একপর্যায়ে প্রায় ৩ বছর আগে বিদেশ যাওয়ার জন্য নিহত কাশেমের সঙ্গে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক লেনদেন করেন কেনাল। সময় পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে কেনালকে বিদেশ পাঠায়নি কাশেম। এ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু জানান, কেনালের টাকা নিয়ে প্রায় ১ বছর আগে সালিশি বৈঠক হয়। ওই সময় নিহত আবুল কাশেম ১ লাখ টাকা কেনালকে ফেরত দেন। বাকি ৮০ হাজার টাকার জন্য কাসেমের কাছ থেকে ফাঁকা চেক নেন কেনাল। কাশেম বাকি টাকা পরিশোধ করতে চাইলেও ফাঁকা চেকটি ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন কেনাল। এরপর থেকেই দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

নিহতের মা জামেনা বেগম বিলাপ করতে করতে জানান, কেনাল বুধবার সকালে চেক ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে কাশেমকে ডেকে নেয়। কেনালের ফোন পেয়ে গরম ভাত রেখে বাইসাইকেল নিয়ে নাজিরপুর বাজারে যায় ছেলে কাসেম। এরপর আর ফেরত আসেনি।

ঘটনাস্থলের মুদিদোকানি বেলাল হোসেন জানান, বুধবার সকালে তার দোকানের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিযুক্ত কেনাল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাইকেল নিয়ে বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন আবুল কাশেম। কাশেম তার দোকানের সামনে এলে কেনাল পথরোধ করেন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে কাশেমের মাথায় আঘাত করেন কেনাল। কাশেম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পিঠে এবং পেটে এলোপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান কেনাল। পরে কাশেমকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশেমকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুল মতিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আসামি কেনাল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১