Pallibarta.com | জুলহাস-তনয় হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা - Pallibarta.com

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

জুলহাস-তনয় হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা

জুলহাস-তনয় হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

এর আগে ২২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরের দিন ২৩ আগস্ট আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন। মামলায় বিভিন্ন সময়ে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। রায়ে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল জিয়াসহ আটজনের মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে নিহতদের পরিবারও প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার অপেক্ষায় রয়েছে।

আসামিরা হলো- চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল জিয়া, আকরাম হোসেন, সাব্বিরুল হক চৌধুরী, মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ। এদের মধ্যে মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ কারাগারে আছেন। বাকি চার আসামি শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল জিয়া বহু মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

মামলার বাদী জুলহাসের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি। অবশেষে আজ রায় হওয়ার কথা রয়েছে। রায়ে আমরা দুই পরিবার প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছি। যাতে এই রায় একটি দৃষ্টান্তমূলক হয়ে থাকে।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খান (জাকির) বলেন, জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলায় আসামি মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা মামলার অপর চার আসামির হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথাও জবানবন্দীতে বলেছেন। এছাড়া সাক্ষ্য-প্রমাণে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, আসামি মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল জিয়াসহ আটজন জুলহাস ও তনয় হত্যায় জড়িত। আমরা রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করছি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেছেন, মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে চার আসামি আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর ওপর ভিত্তি করে কোন আসামিকে সাজা দেয়া যায় না। আমরা আসামিদের খালাস প্রত্যাশা করছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় কলাবাগানের বাসায় ঢুকে জুলহাস মান্নান (৩৫) ও তার বন্ধু মাহবুবকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। জুলহাস ও মাহবুবকে হত্যা করে পালানোর সময় বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লাকেও কুপিয়ে আহত করে। পালানোর সময় রাস্তায় এক হামলাকারীকে জাপটে ধরেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মমতাজউদ্দিন। তাকেও কুপিয়ে পালিয়ে যায় ওই সন্ত্রাসী। তবে এএসআই মমতাজ হামলাকারীদের একজনের কাছ থেকে একটি ব্যাগ রেখে দিতে সক্ষম হন। ওই ব্যাগে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মুঠোফোন পাওয়া যায়।

জুলহাস সমকামীদের অধিকারবিষয়ক সাময়িকী রূপবান সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যকর্মী মাহবুব পিটিএ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ‘শিশু নাট্য প্রশিক্ষক’ হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে কলাবাগান থানায় করা দুই মামলা তদন্ত করে সিটিটিসি। আনসার আল ইসলামের দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন।

 

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০