Pallibarta.com | জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন, কারাগারে ৩ - Pallibarta.com জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন, কারাগারে ৩ - Pallibarta.com

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন, কারাগারে ৩

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন, কারাগারে ৩

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন, কারাগারে ৩ ।
সুনামগঞ্জে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের মামলায় দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাগিব নুরের আদালতে ওই তিনজন হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরা হলেন- উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের বাঘেরকোনা গ্রামের বাসিন্দা দক্ষিণ উপজেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আতাউর রহমান (৬১), সাবেক ডেপুটি কমান্ডার পাথারিয়া ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাধাকান্ত তালুকদার (৬৪) ও ভাতা আত্মসাতে সহায়তাকারী দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের নিত্যানন্দ পালের ছেলে অপু পাল (৪১)।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের পরিমল পাল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর তিনি ও তার দুই ভাই ভারতে চলে যান। বাংলাদেশে পরিমল পালের স্ত্রী, সন্তান কেউ নেই। কিন্তু দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরেশপুর গ্রামের সাধন পালের ছেলে সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করেন। সন্তোষ পালের মা রেনু বালা পাল জীবিত থাকলেও উত্তরাধিকার সনদপত্রে মাকে সে মৃত দেখিয়ে অন্যের ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

একইভাবে তথ্য গোপন করে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা যতীন্দ্র কুমার দাসের ভাতা উত্তোলন করেন তার ভাতিজা বিধুভূষণ দাসের ছেলে নান্টু দাস। বিধুভুষণ দাসের ছেলে নান্টু কান্ত দাস তার ছেলে দাবি করে ভাতা উত্তোলন করেন।

ভুয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলকারী সন্তোষ পাল ও নান্টু দাসকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কমান্ডার আতাউর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রাধাকান্ত তালুকদার ও কাবিলাখাই গ্রামের অপু পালের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কাবিলাখাইয়ের পার্শ্ববর্তী সলফ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গেদা আলীর ছেলে ইসমাইল আলী চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি শান্তিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করে সুনামগঞ্জের সিআইডি। সিআইডি তদন্ত শেষে এই ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ভাতা আত্মসাতকারী সন্তোষ পাল ও নান্টু দাসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছিল সিআইডি। পরে তারা আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন পান। এই মামলায় সিআইডি ১৬ মার্চ ওই তিনজনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ জোন-এ অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সুনামগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো. বদরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ ওই তিনজনের বিরুদ্ধে সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেছিলেন। সোমবার তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০