Pallibarta.com | চেহারায় মিল না থাকায় সন্তানকে হত্যা করলেন বাবা। চেহারায় মিল না থাকায় সন্তানকে হত্যা করলেন বাবা।

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

চেহারায় মিল না থাকায় সন্তানকে হত্যা করলেন বাবা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর শিশু সায়মন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বাবা বাদল মিয়াই ৯ বছরের শিশু সায়মনকে হত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালতে ১৬৪ ধারায় শিশু সায়মনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বাদল। এর আগে বাদল মিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলামের কাছে শিশু সন্তানকে হত্যার কথা ১৬১ ধারায় স্বীকার করেন।

সায়মনের হত্যাকারী বাদল মিয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। বাদল মিয়ার তিন ছেলের মধ্যে সায়মন ছিল বড়। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল। আয়মন-(৬) এবং নাঈম-(৪) নামে তাদের আরও দুই ছেলে রয়েছে।
আদালতের বরাত দিয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, সন্দেহের কারণে বাদল মিয়া তার ছেলেকে খুন করেছে। গত শনিবার সকালে বাদল মিয়া তার ছেলে সায়মনকে নিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে জমিতে ঘাস কাটতে যায়। পরে সে সায়মনকে গলা কেটে হত্যা করে তার মরদেহ ধান ক্ষেতে ফেলে আসে।
তিনি বলেন, পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাদল মিয়া বাড়িতে ফিরে শিশু সায়মনকে খোঁজার নাটক শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে বাড়ি থেকে আধা কিলেমিটার দূরে জমি থেকে গলাকাটা অবস্থায় শিশু সায়মনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এসমন খবর পেয়ে পুলিশ শিশু সায়মনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এসময় কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবা বাদল মিয়াকে থানা নিয়ে আসা হয় বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
ওসি এমরানুল ইসলাম আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাদল মিয়া স্বীকার করেন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থেকে ২০১২ সালে সে দেশে ফিরে আসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের দেওয়ান পাড়ায় বিয়ে করেন। বিয়ের ৫ মাস পর তিনি পুনরায় সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে যাওয়ার দুই মাস পর সায়মনের জন্ম হয়। এতে তার মনে সন্দেহ হয় এই ছেলে তার কিনা? এছাড়া ৭ মাসে কোনো শিশুর জন্ম হয় কিনা। এসব সন্দেহ তার মনে দানা বাঁধতে থাকে। এর একবছর পর বাদল মিয়া আবারও দেশে ফিরে আসেন। পরে সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন বিয়ের আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে বশির নামে এক ছেলের সম্পর্ক ছিল। বাদল মিয়ার সন্দেহ হয় সায়মন বশীরের সন্তান। বিয়ের সময় তার স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন।
বাদল মিয়া আরো জানান, সায়মনের পরে ও আয়মন ও নাঈম নামে তার আরও দুই ছেলের জন্ম হয়। কিন্তু সেই দুই ছেলের সঙ্গে সায়মনের চেহারার কোনো মিল নেই। এছাড়া সায়মন ছিল একটু বেপরোয়া ও ক্ষেপাটে প্রকৃতির। সে প্রায়ই তার অপর দুই ছেলেকে মারধর করতো। গত শুক্রবারও সে তার ছোট ছেলে নাঈমকে মারধর করে। দুই ছেলের সঙ্গে সায়মনের চেহারার মিল না থাকায় বাদল মিয়ার সন্দেহ আরও ঘণিভূত হয়। এসব সন্দেহের কারণে সে সায়মনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।  
পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার ভোরবেলা সে সায়মনকে ঘুম থেকে তুলে তার সঙ্গে ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সে শিশু সায়মনকে গলাকেটে হত্যা করে। পরে বাড়িতে এসে সায়মনকে খোঁজাখুঁজির নাটক শুরু করে বলে জানান পুলিশের কর্মকর্তা।
ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে বাদল মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০