Pallibarta.com | চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় শতভাগ পূরণ হলেও ধান সংগ্রহ এক-চতুর্থাংশ - Pallibarta.com চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় শতভাগ পূরণ হলেও ধান সংগ্রহ এক-চতুর্থাংশ - Pallibarta.com

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় শতভাগ পূরণ হলেও ধান সংগ্রহ এক-চতুর্থাংশ

চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় শতভাগ পূরণ হলেও ধান সংগ্রহ এক-চতুর্থাংশ

চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় শতভাগ পূরণ হলেও ধান সংগ্রহ এক-চতুর্থাংশ ।
ময়মনসিংহ বিভাগে চলতি বোরো মৌসুমে খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সময়সীমার মধ্যে প্রায় শতভাগ পূরণ হলেও ধান সংগৃহীত হয়েছে মাত্র চার ভাগের এক ভাগ। এ জন্য ধানের বর্তমান বাজারদরকেই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ধান-চাল ব্যবসায়ীরা। এদিকে ব্যবসায়ী ও মিলারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ধানচাষিরা উপযুক্ত দাম পেয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মৌসুমে ১ মে থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান এবং ৪০ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়। বিভাগের চার জেলার জন্য এবারের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৩ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন। সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ২৩ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন। শতাংশের হিসাবে মাত্র ২৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৩ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৯২৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সেদ্ধ চাল সংগৃহীত হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল সংগৃহীত হয়েছে ১২ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন। সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৬৩৯ মেট্রিক টন এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে মাত্র ১৫০ মেট্রিক টন চাল কম সংগৃহীত হয়েছে। সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ৯৮ শতাংশ এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ৯৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
ধান সংগ্রহের জেলাওয়ারি হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ময়মনসিংহে ৩৭ হাজার ২৭ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৭ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন, নেত্রকোনায় ২৫ হাজার ২৪৯ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৪ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন, জামালপুরে ১৮ হাজার ৪২১ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৯ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন ও শেরপুরে ১২ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৩ হাজার ৯৫১ মেট্রিক টন ধান সংগৃহীত হয়েছে। শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪১ শতাংশ সংগৃহীত হয়েছে জামালপুর জেলায় এবং সবচেয়ে কম ১৯ শতাংশ সংগৃহীত হয়েছে নেত্রকোনা জেলায়।

ময়মনসিংহ জেলায় ধান সংগৃহীত হয়েছে ২০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চাল সংগ্রহে সফল হলেও ধান সংগ্রহে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কেন সম্ভব হলো না, জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের তুলনায় গ্রামের হাটবাজারে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন, তাই সরকারি গুদামে ধান সরবরাহে তাঁদের আগ্রহ কম। এ ছাড়া গ্রেডিং, শুষ্কতা, পরিবহন খরচ, মজুরি খরচের হিসাব বিবেচনা করে কৃষকেরা বাড়ি থেকে পাইকারের কাছে অথবা পার্শ্ববর্তী বাজারে কাছাকাছি দামে বিক্রি করাকেই সুবিধাজনক মনে করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এবার কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমেও ধান ও চাল সংগৃহীত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নাম নিবন্ধন শেষে তাঁরা ছোট, মাঝারি ও বড় তিন পর্যায়ে যথাক্রমে ১, ২ ও ৩ টন করে সরবরাহ করতে পেরেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। শুধু দরদামের তারতম্যের জন্য ধান সংগ্রহ আশানুরূপ হয়নি। চাল সংগ্রহের জন্য জেলায় ৪৪৭ জন মিলারের সঙ্গে চুক্তি ছিল, সে অনুযায়ী তাঁরা সময়মতো চাল সরবরাহ করেছেন বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ধান সংগ্রহের জন্য প্রতি কেজির দাম ২৭ টাকা নির্ধারণ করে। এই হিসাবে ১ মণ ধানের দাম ১ হাজার ৮০ টাকা। ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্রামীণ হাটবাজার ও বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, এবারের মৌসুমে শুরুর দিকে ধান মণপ্রতি ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত দুই মাসে তা ১ হাজার টাকার ওপরেই বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের ধান ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরেও বিক্রি হয়েছে।

ফুলপুরের কৃষক আবু নাঈম বলেন, ৩ দিন আগে ব্রি-২৮ জাতের ধান ১ হাজার ১৮০ টাকা এবং ব্রি-২৯ জাতের ধান ১ হাজার ১৬০ টাকা মণ দরে তিনি বিক্রি করেছেন। পাইকারেরা বাড়িতে এসে ধান মেপে কিনে নিয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে সাপ্তাহিক হাটেও ধান বিক্রি করেছেন। সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ না করে এ পদ্ধতিতেই তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় এই দামে ধান বিক্রি করতে পেরে তিনি ও অন্যান্য চাষি সন্তুষ্ট ও লাভবান বলে তিনি জানান।

শম্ভুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল মুনসুর বলেন, বাজার এখন স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের তুলনায় বাজারদর বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো ধান সরবরাহ করতে পারেননি।

রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় কৃষকেরা এখনো ধান মজুত করে রেখেছেন। তারপরও তাঁরা বাড়তি দামেই স্বল্প পরিমাণে ধান ক্রয় করে সরকারি গুদামে সরবরাহ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা তেমন আর্থিক সুবিধা পাননি।

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, মাঠপর্যায়ে ধানের মূল্য বেশি থাকায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ধান সংগ্রহ কম হয়েছে। তবে চাল সংগ্রহ ৯৮ শতাংশের বেশি।

সূত্র : https://www.prothomalo.com/bangladesh/

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০