Pallibarta.com | গাজীপুরে মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, চলছে উল্টোপথেও - Pallibarta.com

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১

গাজীপুরে মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, চলছে উল্টোপথেও

গাজীপুরে মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, চলছে উল্টোপথেও

গাজীপুরে মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, চলছে উল্টোপথেও ।

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কে লাগামহীনভাবে চলাচল করছে শত শত অটোরিকশা। মহাসড়কে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশা। শুধু তাই নয়, আকারে ছোট এসব যান চলাচলের ক্ষেত্রে মেনে চলে না কোনো সিগনাল বা সঠিক লেন।

হরহামেশাই উল্টোপথে চলাচল এবং ফাঁক-ফোকর খুঁজে সিগনাল এড়িয়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায় অটোচালকদেরকে। ফলে একদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে যান চলাচলে অব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তায় চলমান অসহনীয় যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব নিষিদ্ধ যান।

গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে উত্তরে ময়মনসিংহ মহাসড়কে সালনা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথে চলাচল করে শতাধিক অটোরিকশা। চৌরাস্তা অভিমুখে ফেরার পথে অধিকাংশ সময়ই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে এই সড়কে। এ ক্ষেত্রে উল্টোপথে ফিরতি রাস্তা ধরা যেন অঘোষিত নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে অটোরিকশা চালকেরা।

বিপরীত দিক থেকে শাঁ শাঁ করে ছুটে আসা দানবাকৃতির বাস-ট্রাককে পাশ কাটিয়ে লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটে যায় এসব ক্ষুদে যান। ফলে প্রায় সময়ই ঘটে দুর্ঘটনা। আর উল্টো পথে আসা এসব অটোরিকশার জটলায় তৈরি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত যানজটের।

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলকারী সৌখিন পরিবহনের একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোগড়া বাইপাস আর চান্দনা চৌরাস্তার সিগন্যাল পাড় হতে আধঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। চৌরাস্তার সিগনাল পেরিয়ে যখন আবার অটোরিকশার জ্যামে আটকে যেতে হয়, তখন আমাদের মন-মেজাজ বিগড়ে যায়। অটোচালকদেরকে কিছু বলতে গেলে তারা উল্টো তেড়ে আসে বলে অভিযোগ এই বাস চালকের।

মিজানুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, পেছন থেকে যখন দ্রুত গতির বাস বা ট্রাক আর সামনে থেকে উল্টো পথে সিএনজি-অটোরিকশা ছুটে আসে তখন আমরা বাইক চালকেরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পরে যাই। নিরাপদে বের হয়ে আসাটা অনেক কঠিন হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে গিয়েও কোন রকম রকমে বিপদ থেকে পাশ কাটিয়ে বের হতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

মিজানুর রহমান একা নন, এই প্রতিবেদককে একই রকম তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান আরও অনেক মোটরসাইকেল চালক।

দেলোয়ার নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ময়মনসিংহ সড়কে উল্টো পথে অটোরিকশা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, স্বাভাবিক যান চলাচল  অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এতে ভোগান্তির শিকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি অটোরিকশা থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় পরিবহন নেতৃবৃন্দসহ আরও অনেকেই। পরিবহন-নেতা, পুলিশ সহ সবার স্বার্থ রক্ষা করেই নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও উল্টোপথে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যান।

এ ব্যাপারে কয়েকজন অটোচালকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মুখ খুলতে চান নি তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোচালক জানান, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যরা প্রায়ই তাদের চাবি কিংবা সিট নিয়ে যায়। পরে তা ফিরিয়ে আনতে হয়।

শুধু ময়মনসিংহমুখী সড়কে নয়, একই অনিয়ম চলে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে প্রতিটি সড়কেই। আর বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম চলছে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যদের চোখের সামনে। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলে কিছু দিন পুলিশের কঠোর অবস্থান দেখা গেলেও ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়ে যায়। সময়ের ব্যবধানে সড়কে ফিরতে থাকে নিষিদ্ধ এসব যান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাকসুদুর রহমান জানান, অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধে ট্রাফিক পুলিশ গাজীপুরে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিনই যে কয়টা সম্ভব অটোরিকশা ডাম্পিংয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তাহলে কেন বন্ধ হচ্ছে না অটোরিকশা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এতটাই বেড়ে গেছে যে প্রতিদিন আটক করেও কমানো যাচ্ছে না। আর অনেক সময়ই অটো আটক করলে তা ছেড়ে দিতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসে বলেও জানান তিনি। অটোরিকশার সিট নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ম্যানেজ হয়ে তা ফেরত দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো কনস্টেবল অনেক সময় টাকার বিনিময়ে এমনটা করে থাকেন বলে তার কাছেও অভিযোগ আছে। তবে একার পক্ষে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০