খামারগুলোতে বাজারের জন্য গরু পালন করাতে যা করে থাকেন

প্রত্যাশিত দামে বিক্রি না হওয়ায় ফিরছে হাজার হাজার গরু

বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য কৃষি খামার গড়ে উঠেছে যেখানে মূলত গরু লালন-পালন করা হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসেবে মতে বাংলাদেশে এখন প্রায় সাত লাখ খামার আছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে ,কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ুয়া অনেক তরুণ পেশা হিসেবে গরুর খামার তৈরি করাকে বেছে নিয়েছে।

এসব খমারে যেসব গরু লালন-পালন করা হয় সেগুলোর মূল গন্তব্য থাকে ঈদ-উল-আযহার পশুর বাজার।

গবাদি পশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরু মাংস উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনেক খামারি পর্যায়ে নেই।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে গরু মোটাতাজা করলে বিনিয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায় এবং গরুর মাংস উৎপাদন অনেকাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

খামারে যেভাবে গড়ে তোলা হয়

খামারে যেসব গরু লালন-পালন করা হয় সেগুলো মোটাতাজা করা হয়। প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা বছরে তিন থেকে চারটি সার্কেল করে থাকে।

সাধারণত তিন মাস, চার মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছরের সার্কেল হয়।

বাংলাদেশ প্রানি সম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পারভীন মোস্তারী বিবিসি বাংলাকে বলেন, গরু মোটাতাজা করা এক ধরণের প্রযুক্তি এবং এটি বিজ্ঞানসম্মত।

” নির্দিষ্ট বয়সের কিছু গরুকে যদি নির্দিষ্ট কিছু খাবার দেয়া হয় তাহলে গরুগুলো দ্রুত মোটাতাজা হয়,” বলেন পারভীন মোস্তারী।

গরু পালনের চারটি ধাপ

চারটি ধাপে খামারগুলোতে এ কাজ করা হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধাপগুলো হচ্ছে – গরু নির্বাচন, কৃমিমুক্তকরণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণ।

সাধারণত গরু মোটাতাজা করার জন্য দুই হতে পাঁচ বছরের গরু নির্বাচন করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরু সংগ্রহ করার দেড় থেকে দুইমাস পরে উন্নত পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা হয়।

গরু মোটাতাজা করার জন্য যেসব খাবার দেয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে আঁশ জাতীয়, দানাদার মিশ্রন এবং সবুজ ঘাসভিত্তিক খাদ্য ফর্মূলা।

এসব খাবারে সাথে নানা উপাদানের মিশ্রন থাকে।

প্রশিক্ষণ জরুরী

বাংলাদেশে যেসব জেলায় বেশি গরুর খামার রয়েছে তার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুষ্টিয়া জেলা অন্যতম।

জেলা পানিসম্পদ অফিসের হিসেব অনুযায়ী কুষ্টিয়া জেলায় গরুর খামার আছে ১০ হাজার এবং ছাগলের খামার আট হাজার।

যেখানে অন্তত দুইটি গরু অথবা দুইটি ছাগল আছে সেগুলোকে খামার হিসেবে বিবেচনা করে প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর।
কুষ্টিয়া জেলার পানিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, যারা খামার করে কিংবা করতে আগ্রহী তাদের প্রশিক্ষণ দেয় পানিসম্পদ অধিদপ্তর।

”কিভাবে গরু মোটাতাজা করা যায় সেটির কৌশল দেখিয়ে দেয়া হয়,” তিনি বলেন।

“আমরা কিছু টেকনিক্যাল পরামর্শ দিয়ে থাকি। গরু যাতে মারা না যায়।

”খামার করার আগে কিছু প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে। একেবারে না জেনে করলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে,” বলেন মি. রহমান।

অবকাঠামো কেন গুরুত্বপূর্ণ

একটা খামার গড়ে তুলতে হলে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গবাদি পশুর জন্য ঘর নির্মাণ পদ্ধতি – যেমন উচ্চতা কতটুকু হবে, ঘরের মেঝে কেমন হবে, খাবার পাত্র কেমন হবে, পানির পাত্র কেমন হবে এগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

এছাড়া কী ধরণের গরু ক্রয় করা যায় এবং তাদের কী ধরণের খাবার দেয়া হবে – এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এসব বিষয় নিয়ে ধারণা থাকলে খরচ কম হয় এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবার সুযোগ থাকে।

কী ধরনের গুরু কেনা উচিত?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরুর খামার দিয়ে লাভবান হতে চাইলে প্রাথমিক জ্ঞান এবং প্রশিক্ষণ একটি জরুরী বিষয়।

“গরু লাভ কিংবা লোকসান নির্ধারিত হয় ক্রয়ের উপর,” মিঃ রহমান বলেন।

”আপনি গরু কিনতে গিয়ে যদি ঠকে যান, তাহলে পরবর্তীতে লোকসান হবে। শর্ট টার্ম নেয়া ভালো। তিন মাস থেকে ছয়মাস নেয়া ভালো।

”সবসময় কেনা-বেচার মধ্যে থাকতে হয়। ১০টা গরু কিনলে সবগুলোতে লাভ হয়না । দুই-একটাতে লস হতে পারে,” তিনি বলেন।

তিনি পরামর্শ দেন, অপেক্ষাকৃত কম স্বাস্থ্যের গরু ক্রয় করে ভালো খাবার দিলে স্বাস্থ্য ভালো হবে। এরপর তিনমাসের মাথায় সেগুলো বিক্রি করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

Translate »