Pallibarta.com | কে বেশি শক্তিশালী ঃ আফগান বাহিনী না তালেবান..............

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

কে বেশি শক্তিশালী ঃ আফগান বাহিনী না তালেবান

কে বেশি শক্তিশালী ঃ আফগান বাহিনী না তালেবান

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তানে হামলা জোরদার করেছে তালেবান। বর্তমানে দেশটির প্রায় অর্ধেক জেলা তাদের নিয়ন্ত্রণে।

তবে এরপরও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করেন, তালেবানের সামরিক বিজয় এখনো বহু দূর। এর কারণ হিসেবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতার দিককে ইঙ্গিত করছেন তাঁরা। বর্তমানে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শহর এখনো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আফগান বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে কার কতটুকু সক্ষমতা, সে বিষয়ে কিছু তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—

জনবল
আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ লাখ ৭ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছেন। এঁদের মধ্যে সেনাবাহিনী, বিশেষ বাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান পুনর্গঠনবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মহাপরিদর্শকের (এসআইজিএআর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামরিক থিঙ্কট্যাংক ‘সিএনএ’র গবেষক জনাথন স্ক্রডেনের মতে, আফগানিস্তানে যেকোনো দিন সরকারি বাহিনীর ১ লাখ ৮০ হাজার সদস্য যুদ্ধ করতে পারবেন।
অপর দিকে তালেবানের শক্তিমত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে গত বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পর্যবেক্ষকেরা বলেন, সশস্ত্র সংগঠনটির ৫৫ থেকে ৮৫ হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

অর্থায়ন
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ আফগানিস্তানে বৈদেশিক সহায়তা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার দরকার হয়। বিপুল অঙ্কের এই সামরিক বাজেটের ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র বহন করে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

অপর দিকে তালেবানের অর্থের উৎস অস্পষ্ট। জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তালেবানের বার্ষিক আয় ৩০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি ডলার হতে পারে। তাদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে মাদক ব্যবসা থেকে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দখল করা এলাকা থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তারা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে স্পষ্ট জনবল নিয়োগ, অর্থায়ন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের জন্য তালেবানকে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না।

পাকিস্তান, ইরান ও রাশিয়া তালেবানকে রসদ ও পরামর্শ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকার। তবে দেশ তিনটি এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অস্ত্র ও সরঞ্জাম
২০০১ সালে তালেবান সরকারকে উৎখাতের পর থেকে আফগানিস্তানে সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন এবং তাদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করতে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবানের তুলনায় আফগান বাহিনী অনেক বেশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে আফগান বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসাল্ট রাইফেল, রাতে দেখার চশমা, সাঁজোয়াযান, আর্টিলারি এবং নজরদারির জন্য ছোট ছোট ড্রোন।

এ ছাড়া আফগান বাহিনীর এমন অনেক কিছু রয়েছে, যেগুলো তালেবানের নেই। এসআইজিএআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান সামরিক বাহিনীর বিমানবহরে ১৬৭টি বিমান রয়েছে, এর মধ্যে আক্রমণে সক্ষম হেলিকপ্টারও রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপর দিকে তালেবান কয়েক দশক ধরেই ছোট ও হালকা অস্ত্র ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে সোভিয়েত আমলের একে-৪৭ রাইফেল, যেগুলো ওই অঞ্চলের কালোবাজারিদের কাছ থেকে তারা সংগ্রহ করে।

২০১৯ সালে অ্যান্তোনিও গিউৎজ্জি তালেবানের ওপর লেখা একটি বইয়ে উল্লেখ করেন, তালেবান যোদ্ধারা স্নাইপার রাইফেল, মেশিনগান, রকেটচালিত গ্রেনেড, মর্টার ও অন্যান্য ছোট রকেট ব্যবহার করে। বিমান ও ট্যাংক–বিধ্বংসী অস্ত্রও ব্যবহারের চেষ্টা করছে তারা।

এর বাইরে তালেবানের প্রাণঘাতী অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আত্মঘাতী বোম্ব স্কোয়াড ও ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। তারা এসব অস্ত্র আফগান ও বিদেশি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে।

এ ছাড়া মাঝেমধ্যে আফগান বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে পশ্চিমা অস্ত্র ও সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে তালেবান। এর মধ্যে রাতে দেখার চশমা, অ্যাসাল্ট রাইফেল ও বিভিন্ন যানবাহন রয়েছে।

সংহতি ও মনোবল
বছরের পর বছর ধরে আফগান বাহিনী আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা দিয়ে আসছে। তাদের বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য হতাহত হয়েছেন, কখনো কখনো দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। আর এখন বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া দুর্বল নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ঘাটতিকেও তাদের মনোবল দৃঢ় না হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়।

অপর দিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালেবানের ভেতরে দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশিত হলেও তাদের বৃহত্তর সংহতিতে চিড় ধরেনি। এর পেছনে ধর্মীয় আবেগ ও বস্তুগত প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা কাজ করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মেহেদি হাসান।

সুত্র: প্রথম আলো

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১