Pallibarta.com | এক সংস্থার মনিটরিং চান রেস্তোরাঁ মালিকরা - Pallibarta.com

বুধবার, ১৮ মে ২০২২

এক সংস্থার মনিটরিং চান রেস্তোরাঁ মালিকরা

এক সংস্থার মনিটরিং চান রেস্তোরাঁ মালিকরা

দেশের রেস্তোরাঁ খাতকে মনিটরিং করে ১২টি সংস্থা। তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা, অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। সে জন্য অবিলম্বে টাস্কফোর্স বা কমিশন গঠন করে একটি সংস্থার অধীনে রেস্তোরাঁগুলোকে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

বৃহস্প্রতিবার (৩১ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এতগুলো সংস্থার দ্বারা যে অরাজকতা চলছে, কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করার জন্য কোনো একটা পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এ অবস্থা তৈরি করেছে। অবিলম্বে টাস্কফোর্স বা কমিশন গঠন করে একটি সংস্থার অধীনে রেস্তোরাঁগুলোকে আনতে হবে। না হলে আমরা আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে সমস্ত রেস্তোরাঁর চাবি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করবো।

তিনি বলেন, প্রতিটা অধিদপ্তর বিক্ষিপ্তভাবে তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। কোনো ম্যাজিস্ট্রেট এলে ক্ষোভ ঝাড়ে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর। সকলে রেস্তোরাঁকে নেতিবাচক চোখে দেখে। পান থেকে চুন খসলেই বিশাল শাস্তি দেয়। কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই কোনো অভিজ্ঞ লোক ছাড়াই যে যেভাবে পারছে জরিমানার নামে ভীতি দেখিয়ে আমাদের ব্যবসা নষ্ট করছে। তারা যেন রেস্তোরাঁকে জরিমানা করার জন্য অতিউৎসাহী।

ইমরান হাসান বলেন, আমাদের সেক্টরের ৯৫ শতাংশ কর্মী অদক্ষ, স্বল্পশিক্ষিত। তাদের আগে ট্রেনিং দিন। আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন হিসেবে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) দিন। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কোনোদিনই খাদ্যের মান ভালো করা যাবে না। জরিমানা করা, হাতে হাতকরা লাগানো কোনো সমাধান নয়।

আসন্ন রমজানে আরও বড় খড়গ নামবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে মহাসচিব বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে প্রতিবারের মতো এবারও রমজানে বিশাল খড়গ নেমে আসবে। আমরা পবিত্রতা রক্ষায় ইফতারি, সেহরিসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ করার জন্য সবোর্চ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকবো। তারপরও বিভিন্ন আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন বিভিন্ন সংস্থার মোবাইল কোর্ট। যেখানে সেখানে রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হবে।

করোনায় এ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জানিয়ে তিনি বলেন, করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রেস্তোরাঁগুলো। তারপরও আমরা না সরকারের কোনো প্রণোদনা পেয়েছি, না কোনো সাহায্য। এখন আর সেটা চাই না, আমরা সরকারের কাছে এসএমই খাত থেকে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ চাই। আর বাংলাদেশ ব্যাংক এ ঋণের জন্য মালিকদের স্ব স্ব ব্যাংকে নির্দেশ দিলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ব্যাংকগুলো।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, রেস্তোরাঁ খাতের এ অবস্থা দূরভিসন্ধিমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র। সরকার এবং মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করে তৃতীয়পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিশেষজ্ঞ কাউকে দিয়ে একটু খতিয়ে দেখুন। এই মাঠপর্যায়ে যে অসন্তোষ বিরাজ করছে তা আপনার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভ্যাট-ট্যাক্সের নামে অত্যাচার-অনাচার সবকিছু মিলে এখন আমাদের রেস্তোরাঁ বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প নেই।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি বলেন, আমাদের যদি কোনো ভূুল থাকে তবে সেটা সংশোধন করুন। সময় দেন সবকিছু ঠিকভাবে চালানোর। কিন্তু দীর্ঘদিনের এসব ব্যবসা রাস্তায় নামিয়ে দেবেন না। আমরা হয়রানি-প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সঠিক সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে চাই।

সংগঠনটির প্রথম যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন বলেন, আমরা মোবাইল কোর্টের বিরুদ্ধে না, মোবাইল কোর্ট চলুক যৌক্তিকভাবে। মানবিকভাবে বিষয়গুলো দেখা হোক এবং আমাদের প্রতিনিধি রাখা হোক। কিন্তু সেটা না করে জরিমানার মানিসকতা নিয়ে মোবাইল কোর্ট হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা অতিউৎসাহী হয়ে পড়ছেন। আমাদের অত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না বরং কথা বললেই জরিমানা বাড়ে। নীরব চাঁদাবাজিও হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিব, কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যান্যরা।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১