অর্থনীতিউদ্যোক্তা উন্নয়নচট্টগ্রামপল্লী সংবাদফিচারশীর্ষ-২

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সফল আত্মকর্মী

আয়াতুল্লাহ ফয়েজ :
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পথচলা। সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের যোগফল একজন সফল আত্মকর্মী। এমনই একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফেনী জেলার সোনাগাজীর ওয়াছিউর রহমান খসরু। যিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২০ এ ভুষিত হন। উচ্চ শিক্ষিত এই তরুণ উদ্যোক্তা চাকরির পিছনে না দৌঁড়ে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামে এসে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন সমন্বিত কৃষি ব্যবসা। শুরুর গল্পটা মোটেই ভাল ছিল না। নানান তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শুরু হয় কঠিন পথচলা। শুরুতে সোনালী মোরগের একটি সেড নিয়ে ব্যবসা শুরু। পরের বছর মাছ, তারপরের বছর গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প। পাশাপাশি বারমাসি ফল ও সবজি উৎপাদন। স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহায়তায় চলে প্রকল্পের কার্যক্রম। যার ধারাবাহিকতায় সফল আত্মকর্মী হিসেবে মিলে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
সফল এই উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সমন্বিত এই কৃষি প্রকল্পের প্রাথমিক মূলধন ছিল অতিসামান্য কিন্তু উদ্যোক্তার মনোবল ছিল বেশী। পরিবারের অল্প সঞ্চয় ও বন্ধুদের আর্থিক সহায়তা নিয়ে শুরু। লাভের মুখ দেখার পাশাপাশি চলে প্রকল্পের কলেবর বৃদ্ধি। যার ধারাবাহিকতায় পঞ্চম বছরে ২ একরের প্রকল্পের এরিয়া দাঁড়ায় আট একর। এই বিশাল কার্যক্রমে বর্তমানে ১২ জন কর্মচারি স্থায়ীভাবে কর্মরত। যা নানা প্রতিকূলতায় মোটেই সহজ ছিল না।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় দুটো সোনালী মোরগের সেডে ছয় হাজার মোরগ, পাঁচটি পুকুরে মিশ্র কার্প ও তেলাপিয়া চাষ এবং দেশী জাতের ষাড় গরুর মোটাতাজা প্রকল্প চলমান। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন জাতের বারমাসি ফলজ গাছ ও সবজি চাষ। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সবুজ গাছ পালা বেষ্টিত অন্যরকম মনোরম পরিবেশ।
এখানকার কর্মচারিরা জানায়, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থি, খামারি ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পরামর্শ দিতে এখানে আসেন। সকলে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া গ্রামে এই ধরণের সমন্বিত কৃষি প্রকল্প আর নেই।
সফল এই যুবক নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরী করেছেন। সোনাগাজী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোক্তা আমাদের যুবকদের মডেল হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আত্মকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি অন্য যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন এবং সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তার সার্বিক কার্যক্রমে গর্বিতও আনন্দিত। কৃষিভিত্তিক এ কার্যক্রম এলাকার বেকার যুবকদেরকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। এখন অনেক শিক্ষিত যুবক এই ধরণের সমন্বিত কৃষি ব্যবসায় জড়িত হচ্ছে।’
সমন্বিত কৃষি ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক নানা কর্মে জড়িত হয়ে সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন এই উদ্যোক্তা। সফল আত্মকর্মী, যুব নেতৃত্বের বিকাশ, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরী ও নানা সামাজিক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২০ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবসে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে সফল আত্মকর্মী হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পুরস্কার লাভ করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মী হিসেবে জেলা প্রশাসক পুরস্কার প্রদান করেন।

রহমান এগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তা ওয়াছিউর রহমান খসরু বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও সততা থাকলে সফল হওয়া সহজ। আমি সবসময় কাজকে প্রধান্য দিয়ে সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতাম। এই বিষয়ে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নিতাম। পণ্যের গুণগত মানের ক্ষেত্রে ব্যবসা নয় সেবাকে প্রধান্য দিয়ে উৎপাদন করতাম। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি অন্য উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমার সফলতার জন্য আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, আমার সহকারি ও কর্মচারির নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button