Pallibarta.com | ঈদে নিরাপদ লঞ্চযাত্রায় প্রস্তুতি কতটা? - Pallibarta.com

সোমবার, ১৬ মে ২০২২

ঈদে নিরাপদ লঞ্চযাত্রায় প্রস্তুতি কতটা?

ঈদে নিরাপদ লঞ্চযাত্রায় প্রস্তুতি কতটা?-pallibarta এবার লঞ্চে যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে/পল্লিবার্তা

মহামারি করোনার কারণে দুই বছর ভাটা পড়ে ঈদের আনন্দে। সরকারি বিধিনিষেধ ও করোনা সংক্রমণের কারণে ছেদ পড়ে ঈদ উদযাপনে। সেসময়ে ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকলেও অনেকেই সামিল হননি ঈদ যাত্রায়। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। সংক্রমণ কমে আসায় এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে করোনা মহামারি। দুই বছর পর অনেকটা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুসলমানরা সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘরমুখো মানুষের ভিড় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে রাজধানী ছাড়বে লাখ লাখ মানুষ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ মে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের সম্ভাবনায় ঈদে ঘরে ফেরায় ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখছেন অনেকে। এই শঙ্কা নৌপথেও। তারওপর এখন চলছে কালবৈশাখীর মৌসুম। তাই সামনে আসছে- নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে নৌপরিবহন খাতের প্রস্তুতি কতটুকু!

 দুই বছর পর অনেকটা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে উদযাপিত হবে এবারের ঈদুল ফিতর। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘরমুখো মানুষের ভিড় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাড়তি যাত্রীর চাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই নৌপথে ঘরে ফেরার ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। সদরঘাট থেকে কোনো ফিটনেসবিহীন যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করছে না বলেও দাবি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা সক্ষমতার পুরোটা দিয়ে ঈদে যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তে যাত্রীর চাপে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এবার ঈদে নৌপথে যাত্রীদের চাপ একটু বেশি হবে বলে মনে করছি। এজন্য আমরা বাড়তি কিছু প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সদরঘাটে লঞ্চ ভেড়ানোর জন্য পন্টুন সংখ্যা ২৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ওয়াইজঘাট থেকে লালকুঠী পর্যন্ত পুরোটা জুড়ে টার্মিনাল। লঞ্চগুলো আগেই টার্মিনালে থাকবে, যাত্রীরা অনায়াসে লঞ্চে উঠতে পারবে। অনলাইনে লঞ্চের টিকিটের ব্যবস্থাও করছি।

 লঞ্চে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে লঞ্চে ডাবল ট্রিপের ব্যবস্থা করা হবে। সময়মতো লঞ্চ ছেড়ে যাবে

‘এনআইডির মাধ্যমে লঞ্চের টিকিট কাটার নিয়ম আমরা শুরু করতে চাচ্ছি। হয়তো এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবো না। ২৬/২৭ এপ্রিল থেকে এনআইডির মাধ্যমে লঞ্চের টিকিট কাটা চালু করা হবে।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে নৌপুলিশ কাজ করবে, কোস্টগার্ড কাজ করবে, ফায়ার সার্ভিস কাজ করবে। ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করবো।

‘যাত্রীর চাপ থাকলে ওভারলোড হয়তো হয়। কিন্তু আমরা সিরিয়াস ওভারলোডিং হতে দেই না। বন্দর সমন্বয় কমিটি যদি মনে করে কোনো লঞ্চে পর্যাপ্ত যাত্রী হয়ে গেছে, লঞ্চটি এখনই ছেড়ে দেওয়া দরকার, তাহলে ওই লঞ্চ ছাড়ার সময় যখনই হোক ওই মুহূর্তে লঞ্চকে ঘাট ত্যাগ করতে হবে। তাই সিরিয়াস ওভারলোডিং হওয়ার সুযোগ থাকবে না।’ বলেন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, কালবৈশাখীর বিষয়ে আমরা আমাদের মেসেজগুলো (বার্তা) প্রচার করছি। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কালবৈশাখী দেখা দেওয়া মাত্র প্রত্যেকটি লঞ্চকে তীরে ভিড়িয়ে রাখতে হবে। এই নির্দেশনা আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সামনের দিনগুলোতেও বলবো।

‘সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে সড়কগুলো যাতে চলাচলযোগ্য রাখা হয় সেজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি। আবার তাদের মনে করিয়েও দিচ্ছি।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণত সদরঘাটে ৮০ থেকে ৮৫টি লঞ্চ আসা-যাওয়া করে। ঈদের সময় আমরা দেখেছি ২০০ থেকে ২১০টি লঞ্চ আসা-যাওয়া করছে। যাত্রী রেখেই লঞ্চগুলো চলে আসে, তাই ট্রিপ বেড়ে যাচ্ছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কোনো আনফিটেড লঞ্চ সদরঘাট থেকে কোনো গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফিটনেসবিহীন লঞ্চ টার্মিনালে তো ভেড়াতেই পারে না। ফিটনেস নেই সদরঘাট থেকে এমন কোনো লঞ্চ চলাচল করছে না।

সদরঘাট টার্মিনালে ঈদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন নৌপ্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের যেসব জাহাজ সার্টিফাইড, ডিজি শিপিংয়ের সনদপ্রাপ্ত, সেসব জাহাজ সার্ভে ও ফিটনেস থাকা সাপেক্ষে চলবে। যেগুলো রোটেশনের জন্য কম চলছিল, সেগুলো এখন পুরোপুরি চলবে। প্রয়োজনে জাহাজ যথাশিগগির গন্তব্যে যাবে আবার ফিরে আসবে। যথাসম্ভব ট্রিপ বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে। নতুন কিছু জাহাজও এসেছে, তাতেও কিছু ট্রিপ হবে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে চলাচল করা লঞ্চগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৪টি লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখানেও কিছু লোক চলাচল করতে পারবে। এভাবে যতটা সম্ভব আমরা জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

‘শেষ পর্যন্ত ঈদের দুদিন আগে যদি সব গার্মেন্টস একসঙ্গে ছুটি দেয়, তাহলে তো তারা যাওয়ার জন্য ভিড় করবে। সেক্ষেত্রে যদি লঞ্চের লোডলাইন পর্যন্ত নেওয়ার পর আর যাত্রী নেওয়া না যায়, তাহলে লোকজনকে ফিরে যেতে হবে। এমন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। আজকে নৌ-পুলিশের সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়েছে, সেখানে এরকম সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হবে না। কেউ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে তাকে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে। কারো জেল-জরিমানা হলে আমরা অ্যাসোসিয়েশন থেকে তার পাশে দাঁড়াবো না।’ যোগ করেন তিনি।

মাহবুব উদ্দিন বলেন, এখন ঝড়ের সময়। নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমরা জাহাজ চালাবো না। এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে।

তিনি বলেন, সদরঘাট থেকে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। ঈদের আগে কয়েকদিন হয়তো প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ লোক যেতে পারবে বলে আমরা আশা করছি। ধারণা করা হচ্ছে, এবার অন্যান্য সময়ের ঈদের তুলনায় প্রায় ২০ লাখ বেশি লোক ঢাকা ছাড়বে। তবে লম্বা ছুটি হচ্ছে, তাই সবাই হয়তো একসঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করবে না। শিশু বা নারীদের হয়তো আগে পাঠিয়ে দেবে। এটা ভালো দিক।

লঞ্চ মালিক মাহবুব আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কাটার বিষয়টি নিশ্চিতের চেষ্টা করবো আমরা। তবে ঈদের মধ্যে সেভাবে সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে।

সংস্থাটির সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল বলেন, আশা করি নৌপথে ঈদ যাত্রায় সমস্যা হবে না। শেষদিকে যাত্রীদের ভিড় হলেও আমরা সামাল দিতে পারবো। আর ঝড়ের বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। আবহাওয়ার দপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা হবে। ইনশাআল্লাহ যাত্রীদের নিরাপদে বাড়িতে নিয়ে যাবো, আবার বাড়ি থেকে নিরাপদে কর্মস্থলে নিয়ে আসবো।

তিনি বলেন, এনআইডি দিয়ে কেবিনের টিকিট কাটার বিষয়টি আমরা এখন থেকেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। ডেকে বাস্তবায়ন করতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে।

সদরঘাট আসার সড়কগুলো এখনই অনুপযোগী হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সড়ক চলাচল উপযোগী রাখার জন্য আমরা অনেক অনুরোধ করেছি সরকারকে। কিন্তু সদরঘাটে এসে লঞ্চে ওঠার আগেই যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় আশপাশের সড়কে। একইভাবে আবার লঞ্চ থেকে নেমেও যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। যানবাহন পান না, পেলেও ভাড়া অনেক বেশি। সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা যে যেভাবে পারে জুলুম করে।

‘এছাড়া নদীতে মার্কারগুলো ঠিক করতে হবে। ঈদের আগে নদীতে জাল ফেলা চলবে না। কারণ এখন দিনরাত ২৪ ঘণ্টা লঞ্চ চলবে। পুরো নদীতে জাল ফেললে লঞ্চ চলবে কোনদিক দিয়ে? আর গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটের নাব্যতা সংকট আছে কি না তা যাচাই করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

এর আগে রোববার (২৪ এপ্রিল) ঢাকার সদরঘাট টার্মিনালে ঈদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে লঞ্চে ডাবল ট্রিপের ব্যবস্থা করা হবে। সময়মতো লঞ্চ ছেড়ে যাবে।

করোনা পরিস্থিতির দু’বছর পর সবাইকে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করতে নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের সময়ে লঞ্চ বার্থিং করে ফেলবে। নির্দেশনা মেনে লঞ্চ চলবে।

 

 

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১