ইসলামী সংস্কৃতির সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী

ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা মানুষের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে বেশ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ। তিনি ছিলেন ইসলামকেন্দ্রিক সংস্কৃতির একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব।



সময়ে সময়ে তার সুললিত কণ্ঠে শোনাতেন ইসলামের সাম্য ও আদর্শের বাণী। তুলে ধরতেন সমাজের নানা অবিচার ও অসঙ্গতি। অপসংস্কৃতির মোকাবেলায় সুস্থ ও নির্মল সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গিয়েছেন আমৃত্যু।

কিশোর ও যুবসমাজকে পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি থেকে রক্ষার জন্য গড়ে তুলেছিলেন মননশীল এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘কলরব’।

ইসলামী সংস্কৃতি নিয়ে আইনুদ্দীন আল আজাদের মিশন শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক সংগঠন; কলরবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি তৈরি করে গিয়েছেন অগণিত সংস্কৃতিকর্মী। তার হাত ধরে বেড়ে উঠেছে অনেক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী।

আইনুদ্দীন আল আজাদের একান্ত পরিচর্যা এবং কাছাকাছি থেকে হাতেগোনা যে কয়েকজন ইসলামী সংস্কৃতিকে তার মতো করে ভেবেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক এবং হলি টিউনের প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ বদরুজ্জামান।

বদরুজ্জামানের সংগীত চর্চা শুরু ২০০৩ সাল থেকে। তবে তার প্রথম অ্যালবাম ‘বিমুগ্ধ লগন’ এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদচারণা হয় ২০০৮ সাল থেকে। এরপর থেকে তিনি একে একে বেশ কিছু জনপ্রিয় ইসলামী সংগীত শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন।

মুহাম্মদ বদরুজ্জামান শুধু সংগীত গেয়ে থাকেন বিষয়টি এমন না;পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের এ যাবতকালের শ্রোতাপ্রিয় অনেক সংগীতের সফল একজন গীতিকার ও সুরকার।

বাংলাদেশে ইসলামী সংগীতের উন্নত অডিও নির্মাণ, ভিডিও মেকিং, পছন্দনীয় লোকেশন নির্বাচন  এবং মানসম্পন্ন ইসলামী সংগীত তৈরির ধারা অনেকটা শুরু হয় মুহাম্মদ বদরুজ্জামানের হাত ধরেই।

এর মধ্যে ‘সাল্লি আলা মুহাম্মাদ’, ‘হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ’, ‘একটি বাংলাদেশ’, ‘সালাত’, ‘সালাম’ এবং ‘যিকরুল্লাহ’ সংগীত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়নের যাত্রাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চলার পথে’ শিরোনামে মুহাম্মাদ বদরুজ্জামানের একক একটি সংগীতের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে হলি টিউন ইউটিউব চ্যানেলের।

তারপর থেকে জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের সঙ্গে একটি চুক্তির মধ্যে দিয়ে এই চ্যানেলে কলরবের শিল্পীরা ইসলামী সংগীত প্রকাশ করা শুরু করেন। এভাবে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকে চ্যানেলটি।

উন্নত ভিডিও মেকিং, মনোরম লোকেশনে দৃশ্যায়ন, শ্রুতিমধুর রেকর্ডিং ও ব্যাপক কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে চ্যানেলটি শ্রোতাদের হৃদয়মন জয় করা শুরু করে; যা এখন প্রায় চল্লিশ লাখ সাবস্ক্রাইবার সংখ্যায় পৌঁছেছে।

মুহাম্মদ বদরুজ্জামান ইসলামী সংস্কৃতির সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী । সে লক্ষ্যে সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে শ্রোতাপ্রিয় অসংখ্য সঙ্গীত নির্মাণ করে যাচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বপ্ন দেখি একদিন বাংলাদেশের এই বিস্তীর্ণ ভূমিতে ইসলামী সংস্কৃতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবে ।

সুত্র : যুগান্তর

Print Friendly, PDF & Email

Translate »