Pallibarta.com | ইভ্যালীকে আইনি নোটিশ - Pallibarta.com

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইভ্যালীকে আইনি নোটিশ

কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে পণ্য ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান পেপারফ্লাই। সাত কোটি টাকা পাওনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তারা এ নোটিশ পাঠিয়েছে।

ইভ্যালির নানা পণ্য বিভিন্ন জায়গায় ডেলিভারি দিয়ে আসছিল পেপারফ্লাই। তবে গত সাত মাস ধরে তারা এর জন্য কোনো টাকা পাচ্ছিল না।

নোটিশে বলা হয়, পাওনা টাকা আদায় করার জন্য পেপারফ্লাই নানাভাবে চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া দিচ্ছিল না ইভ্যালি। এ কারণেই পাওনা টাকা ফিরে পেতে তারা ইভ্যালিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে।

পেপারফ্লাইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা রাহাত আহমেদ বুধবার রাতে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আমরা ইভ্যালির পণ্য বিলির কাজ করেছি। আমাদের সঙ্গে তাদের চুক্তি আছে। টাকা চেয়ে চেয়ে না পেয়েই শেষ পর্যন্ত আইনি নোটিশ দেওয়া হলো।’

পেপারফ্লাইয়ের আইনি নোটিশের বিষয়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল বুধবার রাতে দেশের একটি সনামধন্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে পেপারফ্লাই সাত কোটি টাকা পায়, এটা ঠিক। এ টাকা আমরা দিয়ে দেব।’ কবে দেওয়া সম্ভব, এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না। আমরা তো ব্যবসা করছি। ফলে বেশি সময় লাগবে না।’

এদিকে পেপারফ্লাই এর মতো অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ইভ্যালির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পান বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এক হিসাবে দেখা যায়, পণ্য সরবরাহকারীরা ইভ্যালির কাছে থেকে প্রায় ২০৬ কোটি টাকা পাবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতে ইভ্যালি জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের কাছে ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩ টাকা তাদের দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে।

ইভ্যালি এসব মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য কিনে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে। ইভ্যালি জানিয়েছে, যে কোনো ব্যবসায়ে ক্রেডিট সুবিধা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা যুগ যুগ ধরে প্রতিটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান।

ইভ্যালির দাবি, ইভ্যালির সঙ্গে সব সরবরাহকারীর ক্রেডিট–সংক্রান্ত চুক্তি বিদ্যমান আছে। তাই যে অর্থ বর্তমানে দেনা হিসেবে আছে, তা অতি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য পরিমাণ।

এর আগে ১৩ আগস্ট ইভ্যালিকে চিঠি দিয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানির সম্পদ ও দায়ের বিবরণ, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দেনার বিবরণ জানতে চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে সময় চেয়ে আবেদন করে ইভ্যালি। তবে সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট দেওয়া হিসেবে ইভ্যালি জানিয়েছিল, গ্রাহকরা তাদের কাছে ৩১১ কোটি টাকা পাবেন।

গ্রাহকের পাওনার সমপরিমাণ টাকা পণ্য কেনার জন্য অগ্রিম মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগে ১৯ আগস্ট ইভ্যালি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের এই দায় ও সম্পদের তথ্য দেয়।

ওই সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় তিনি বলেছিলেন, ইভ্যালির দেনার পরিমাণ ৫৪২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ইভ্যালি তাদের সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছে ১০৫ কোটি।

কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু দেখিয়েছে ৪২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সেভাবেই তারা তাদের ব্যালেন্স শিট মিলিয়েছে।জানা গেছে, ইভ্যালির ৫৪২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার দেনার বিপরীতে ব্র্যান্ড ভ্যালু দেখানো হয়েছে ৪২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

অদৃশ্য সম্পদ দেখানো হয় ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং দৃশ্যমান সম্পদের হিসাব দেখানো হয়েছে ১০৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকা।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০