Pallibarta.com | ইতেকাফের যত উপকারিতা - Pallibarta.com

সোমবার, ১৬ মে ২০২২

ইতেকাফের যত উপকারিতা

ইতেকাফের যত উপকারিতা-pallibarta পল্লিবার্তা

মুফতি আলী আকবর ফারুকী

ইতেকাফ আল্লাহতায়ালার সঙ্গে বান্দার গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করার মাধ্যম। রাব্বে কারিমের সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক দৃঢ় হয় ইতেকাফের মাধ্যমে। ইতেকাফ বান্দার জন্য দরবারে এলাহি পর্যন্ত পৌঁছার এক সেতুবন্ধন। রাব্বুল আলামিনের চূড়ান্ত সান্নিধ্য অর্জনের জন্য নিজেকে তাঁর সমীপে সমর্পণ করার এক সুবর্ণ সুযোগ। সুবর্ণ সুযোগ রবের প্রেমে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার। নিজেকে দরবারে এলাহির দিকে মনোনিবেশ করার।

ইতেকাফের দ্বারা সত্যিকারার্থেই হৃদয়ে এক অনাবিল সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জিত হয়। অনুভব হয় হৃদয়জুড়ে এক আত্মপ্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তির ঢেকুর। সৃষ্টি হয় মহান মালিকের সন্তুষ্টির পথে চলার অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা। এ কারণেই রাসুল (সা.) নিয়মিত রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, ‘প্রতি রমজানের শেষ দশকে রাসুল (সা.) ইতেকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি ২০দিন ইতেকাফে কাটান।’ (বোখারি : ১৯০৩)।

এই ইতেকাফের নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। তা হলো—

শবে কদর প্রাপ্তির নিশ্চয়তা
ইতেকাফের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, শবে কদর প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’ (বোখারি : ২০১৭)। যেহেতু ইতেকাফকারীগণ রমজানের শেষ দশকে মসজিদেই অবস্থান করেন এবং সর্বদা আল্লাহর ধ্যানে নিজেদের মগ্ন রাখেন, নিয়োজিত রাখেন নিজেদের আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে, তাই আশা করা যায়, তারা শবে কদর পেয়ে যাবেন।

মসজিদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক সৃষ্টি
ইতেকাফকারীগণ ধারাবাহিকভাবে যখন দশদিন মসজিদে অবস্থান করেন, স্বভাবতই মসজিদের সঙ্গে তাদের একটা হৃদ্যতার সম্পর্ক তৈরি হয়, ভালোলাগা ও ভালোবাসা তৈরি হয়। এ সম্পর্ক কেয়ামতের দিন তাদের উপকৃত করবে। সম্মানের মুকুট পরাবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সাত শ্রেণির মানুষদের আল্লাহতায়ালা হাশরের ময়দানে আরশের নিচে ছায়া দান করবেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো, যাদের হৃদয়টা মসজিদের সঙ্গে ঝুলন্ত থাকে।’ (বোখারি : ৩২১৫)।

আরেক হাদিসে বর্ণিত আছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বান্দাদের ডেকে ডেকে বলবেন, ‘আমার প্রতিবেশী লোকেরা কোথায়?’ তখন ফেরেশতারা বলবেন, ‘আপনার প্রতিবেশী আবার কারা?’ আল্লাহ বলবেন, ‘যারা দুনিয়াতে আমার ঘর (মসজিদ)-এর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রেখেছে এবং মসজিদ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে।’ (মুসনাদে আহমদ : ১০/২০৩)।

গোনাহ মুক্ত থাকার সৌভাগ্য
মসজিদের পরিবেশ ইবাদতের জন্য অনুকূল। গোনাহের কাজের প্রতিকূল। ফলে সহজেই গোনাহমুক্ত থাকা যায়। কারণ, মানবজীবনে পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। পরিবেশ মানুষকে প্রভাবান্বিত করে দারুণভাবে। এ কারণেই আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তওবা : ১১৯)।

আত্নার প্রশান্তি ও উৎকর্ষ সাধন
ইতেকাফকারী মসজিদের পরিবেশে থাকার কারণে হৃদয়ে সত্যিকারের এক প্রশান্তি অর্জন করেন। কারণ, তারা আল্লাহতায়ালার স্মরণে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। তাসবিহ-তাহলিল ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকেন। ফলে তাদের হৃদয়ের উৎকর্ষ সাধন হয় ও প্রশান্তি অর্জিত হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সুরা রাদ : ২১)।

সময়ের হেফাজত
পৃথিবীতে মানুষ যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি অপচয় করে, তা হলো সময়। সময়ের অবমূল্যায়ন হয় সবচেয়ে বেশি। এ কারণে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমন দুটি নেয়ামত আছে, যাতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসরতা।’ (বোখারি : ৬৪১২)। ইতেকাফকারীদের ওপর আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত, তারা সময়ের হেফাজত করতে পারেন। সেই সঙ্গে সময় সওয়াব অর্জনে ব্যয় করেন। ব্যয় করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে।

বেশি বেশি নফল ইবাদতের সুযোগ
ইতেকাফের সবচেয়ে বড় একটি উপকার হচ্ছে, অধিক পরিমাণে নফল ইবাদতের সুযোগ পাওয়া যায়। আর নফল ইবাদতের দ্বারাই বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যায়। যেমনটি হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে; আল্লাহ বলেন, ‘আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি,তা দ্বারা কেউ আমার নিকটবর্তী হয় না। বান্দা নফল ইবাদতের দ্বারা আমার নিকটবর্তী হতে থাকবে।’ (বোখারি : ৬৫০২)।

সুন্নতে কেফায়া পালন
মাহে রমজানের শেষ দশকের ইতেকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া। পুরো মহল্লার কজন মানুষ আদায় করলেই সবার দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। তবে যারা ইতেকাফে বসেন, তারা রাসুল (সা.)-এর এ সুন্নতটি অন্যের দ্বারা আদায় না করিয়ে সরাসরি নিজেরাই আদায় করলেন। (দুররে মুখতার : ২/৪৪০)।

লেখক : সিনিয়র মুদাররিস, জামিআ রহমানিয়া রাজশাহী

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১